ভোজের পটভূমিতে রয়েছে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ তীব্র সংশোধন (SIR) ও বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট চুরি মডেল’-এর অভিযোগে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।

মলিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী ও সনিয়া গান্ধী
শেষ আপডেট: 12 August 2025 08:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge Dinner Party) সোমবার রাতে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Bloc) সাংসদদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন। রাজধানীর তাজ প্যালেস হোটেলের এই ডিনারপার্টিতে উপস্থিত ছিলেন শরদ পওয়ার (Sharad Pawer), সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi), রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, ডিম্পল যাদব, জয়া বচ্চন, ডিএমকের কানিমোঝি, আরজেডির মিসা ভারতি, শিবসেনা (ইউবিটি)-র সঞ্জয় রাউত ও প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা প্রমুখ। এ ছাড়া ইন্ডিয়া জোটে না থেকেও আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং ও সন্দীপ পাঠকও আমন্ত্রিত ছিলেন।
ভোজের পটভূমিতে রয়েছে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ তীব্র সংশোধন (SIR) ও বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট চুরি মডেল’-এর অভিযোগে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। কয়েক দিন আগেই রাহুল গান্ধীর বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা নৈশভোজে মিলিত হয়ে এই ইস্যুতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সেদিন রাহুল ‘ভোট চুরি মডেল’-এর বিরুদ্ধে একটি বিশদ প্রেজেন্টেশনও দেন।
এর আগে সোমবার সকালেই বিরোধী সাংসদরা সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দিকে মিছিল করেন। সাদা টুপি, তাতে লাল ক্রস চিহ্ন দিয়ে ‘এসআইআর’ ও ‘ভোট চুরি’ লেখা প্ল্যাকার্ডে মিছিল করেন তাঁরা। কিন্তু সংসদ ভবন থেকে কিছুটা দূরে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। তারপর রাস্তায় বসেই স্লোগান তোলেন সাংসদরা। কেউ কেউ ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ বাসে করে তাঁদের নিয়ে যায় পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়, যদিও কিছুক্ষণ পরেই সবাই মুক্তি পান।

বাসে বসে আটক অবস্থায় রাহুল গান্ধী বলেন, "এ লড়াই রাজনৈতিক নয়, সংবিধান বাঁচানোর লড়াই। এক ব্যক্তি, এক ভোট— এটাই আমাদের দাবি।" মুক্তির পর তিনি অভিযোগ করেন, “এ শুধু বেঙ্গালুরু নয়, দেশের নানা কেন্দ্রে ঘটছে। নির্বাচন কমিশন জানে, এই তথ্য একবার প্রকাশ পেলে বিস্ফোরণ হবে। আমরা তা সামনে আনব।”
গত বৃহস্পতিবার রাহুল দাবি করেছিলেন, কর্নাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রে পাঁচ ধরনের কারচুপির মাধ্যমে এক লক্ষেরও বেশি ভোট চুরি হয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে নকল ভোটার, অবৈধ ঠিকানা, এক ঠিকানায় বহু ভোটার ইত্যাদি।
বিহারে এসআইআর নিয়ে সংসদের দুই কক্ষে বিরোধীরা ক্রমাগত বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের বিপুলসংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। তবে সরকার জানিয়েছে, কোনও সাংবিধানিক সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যাবে না।