স্বাধীনতার পর এটাই ভারতীয় ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় সংস্কার। এবার থেকে সব ক্রীড়া সংস্থা সরকারের একই ছাতার তলায় থাকবে।

মনসুখ মাণ্ডব্য
শেষ আপডেট: 11 August 2025 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বাইরে যখন বিরোধীরা বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে চলেছেন, তখন লোকসভায় (Lok Sabha) নিঃসারে পাশ হয়ে গেল জাতীয় ক্রীড়া অনুশাসন বিল (National Sports Governance Bill)। বিল পাশ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য (Mansukh Mandaviya) বলেন, বিরোধী দলগুলির দেশের উন্নতি নিয়ে কোনও লক্ষ্য নেই, তারা শুধু বিক্ষোভই দেখাবে।
কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী সোমবার বলেছেন, জাতীয় ডোপিং-বিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৫ এবং জাতীয় ক্রীড়া অনুশাসন বিল হল মূল সংস্কার। যার লক্ষ্য হল, ভারতে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশ্বমানের ক্রীড়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, কারণ আমরা অলিম্পিক্স আয়োজনের জন্য দরপত্র আহ্বান করতে চলেছি।
মনসুখ মাণ্ডব্য এদিন বলেছেন, "আগামী দিনে ভারত অলিম্পিক্সের জন্য দরপত্র আহ্বান করতে চলেছে। এই মুহূর্তে আমাদের ক্রীড়া বাস্তুতন্ত্রকে শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি সেই দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্বাধীনতার পর এটাই ভারতীয় ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় সংস্কার। এবার থেকে সব ক্রীড়া সংস্থা সরকারের একই ছাতার তলায় থাকবে।"
#monsoonsession2025
Union sports Minister @mansukhmandviya replies to the discussion on The National Sports Governance Bill, 2025. and The National Anti-Doping (Amendment) Bill, 2025 in #LokSabha.@IndiaSports @LokSabhaSectt
Watch Live : https://t.co/yi36YuP2re pic.twitter.com/ZxERhs07cc— SansadTV (@sansad_tv) August 11, 2025
এই বিল পাশ করার সময় বিরোধীদের প্রতি তীব্র তোপ দেগেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। মাণ্ডব্য বলেন, খেলাধুলা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরে, এই ক্ষেত্রটি তার প্রাপ্য মনোযোগ পায়নি। তিনি বলেন, "এত বড় দেশ হওয়া সত্ত্বেও, অলিম্পিক্স গেমস এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। এই বিলের লক্ষ্য ভারতের ক্রীড়া সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। যাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমরা আরও ভাল প্রদর্শন করতে পারি।"
ক্রীড়া অনুশাসন বিল কী?
এই যুগান্তকারী আইনটির লক্ষ্য হল, জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলির (NSF) স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি নিরাপদ ক্রীড়া প্রোটোকল এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষা বৃদ্ধি করা। বিলটি ক্রীড়া নীতিমালা প্রচার, ক্রীড়াবিদদের স্বার্থ রক্ষা এবং এনএসএফগুলির জন্য একটি মানসম্মত শাসন কাঠামোর মাধ্যমে প্রশাসনিক বিরোধ সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে।
এই আইনী পদক্ষেপ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। ঐক্যমত্যের অভাবে অনুশাসন বিলটি এর আগে দু’বার মন্ত্রিসভায় এবং একবার সংসদে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
বিলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিধানগুলির মধ্যে একটি হল, ক্রিকেটের জন্য বেসরকারি পরিচালনা সংস্থা ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) একটি এনএসএফ হিসাবে স্বীকৃত হবে এবং একই শাসন কাঠামোর অধীন থাকবে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পরে সমস্ত ফেডারেশনের মতো বিসিসিআইকেও বার্ষিক স্বীকৃতি চাইতে হবে। নতুন প্রস্তাবিত জাতীয় ক্রীড়া ট্রাইব্যুনাল তাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সমস্ত আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করবে। বিল অনুসারে, বিসিসিআই বা এর আওতায় থাকা রাজ্যগুলির পরিচালন সমিতি কোনও বিরোধের ক্ষেত্রে সরাসরি আদালতে যেতে পারবে না।
সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত নির্বাচনের পরে, বিসিসিআইকে আসন্ন জাতীয় ক্রীড়া বোর্ডের কাছ থেকে স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে হবে, যদিও তারা সরকারী তহবিল পাবে না।