মুম্বইয়ের দাদর কবুতরখানা বন্ধ করার প্রতিবাদে আগামী ১৩ অগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন আন্দোলন শুরু হবে বলেও সরকারকে সতর্ক করে দেন বিজয়।

রবিবার পুরসভা ফের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে প্ল্যাস্টিক দিয়ে মুড়ে দেয়।
শেষ আপডেট: 11 August 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কবুতর (পায়রা) বাঁচাতে প্রয়োজনে অস্ত্র ধরবেন অহিংসার পূজারী জৈনরা। জৈন সন্ন্যাসী মুনি নীলেশচন্দ্র বিজয় এই হুমকি দিয়েছেন। মুম্বইয়ের দাদর কবুতরখানা বন্ধ করার প্রতিবাদে আগামী ১৩ অগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন আন্দোলন শুরু হবে বলেও সরকারকে সতর্ক করে দেন বিজয়। মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় পায়রাদের সাধারণ মানুষ দানাপানি দেন। অথচ, সেই পায়রার বিষ্ঠা থেকে মানুষের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির মতো প্রাণঘাতী অসুখ। সে কারণে আদালতের নির্দেশে কবুতরখানা বন্ধ করেছে বৃহম্মুম্বই পুরসভা। তারই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন জৈন সন্ন্যাসী।
পায়রাদের খাবার খাওয়ানো জৈন ধর্মের একটি প্রাচীন ধর্মীয় প্রথা। দেশ জুড়ে জৈন ধর্মাবলম্বীরা নিষ্ঠার সঙ্গে এই অনুশাসন মেনে এসেছেন। নীলেশচন্দ্র সেকথা তুলে ধরে জৈন সম্প্রদায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করবে। যদি আমাদের ধর্মীয় প্রথার বিরুদ্ধে আদালত রায় দিয়ে থাকে, আমরা তার বিরুদ্ধে যাব, বলেন তিনি। সেই উপলক্ষে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, জৈনরা শান্তি চান। কিন্তু, যদি প্রয়োজন পড়ে, তাহলে ধর্মরক্ষায় জৈনরা অস্ত্র হাতে তুলে নিতেও পারেন। প্রসঙ্গত, গত ৬ অগস্ট বৃহন্মুম্বই পুরসভা পায়রাদের খাওয়ার জায়গায় ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। যা নিয়ে প্রতিবাদকারীরা সেই ঢাকনা ছিঁড়ে ফেলে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তারপর রবিবার পুরসভা ফের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে প্ল্যাস্টিক দিয়ে মুড়ে দেয়। সেখানে পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজয়ের অভিযোগ, এই নিষিদ্ধ করার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। নির্বাচনের আগে এটা ইচ্ছাকৃত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, দেশজুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ জৈন ধর্মাবলম্বী মানুষ এই প্রতিবাদে অংশ নেবেন। তাঁর কথায়, পিঁপড়ে থেকে হাতি পর্যন্ত কোনও প্রাণীকেই না খেতে পেয়ে মরতে দেওয়া যাবে না। জৈন ধর্মকে কেন নিশান করা হচ্ছে। সকলেই দেখতে পাচ্ছে, কত মানুষ বিষমদ খেয়ে এবং চিকেন খেয়ে মরে যাচ্ছে। সেখানে পায়রারাই বিপদের, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নীলেশচন্দ্রের সাফ কথা, আমরা সংবিধান, আদালত, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু কেউ যদি আমাদের ধর্মের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে আদালতকেও রেয়াত করা হবে না। পর্যুষণ উৎসবের পরে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। দেশজুড়ে অনশন আন্দোলন হবে। তাঁর অভিযোগ, পুরসভা ও পুলিশ বিল্ডারদের পক্ষ নিচ্ছে।