আদালত মন্তব্য করে, এমন কল্যাণমূলক নীতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা খুঁতখুঁতে মনোভাব দেখানো উচিত নয়।

দিল্লি হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 6 September 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড চলাকালীন কর্মরত অবস্থায় প্রাণ হারানো (Covid Duty Death) এক স্কুল প্রধানশিক্ষকের (School Principal death in covid) পরিবারকে ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)।
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তুষার রাও গেদেলার ডিভিশন বেঞ্চ ৪ সেপ্টেম্বর এক রায়ে স্পষ্ট করে জানায়, প্রধানশিক্ষক শিবনাথ প্রসাদের মৃত্যু কোভিড দায়িত্ব পালনের সময় সংক্রমিত হওয়ার ফলেই হয়েছিল।
কী ঘটেছিল?
শিবনাথ প্রসাদ ১৯৯৩ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দিল্লি সরকারের (Delhi Government) চাকরিতে যোগ দেন এবং মৃত্যুকালে তিনি নিথারি এমসিডি প্রাইমারি বয়েজ স্কুলের প্রধানশিক্ষক ছিলেন।
২০২০ সালে দিল্লি সরকার একটি বিশেষ স্কিম চালু করে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, কোনও সরকারি কর্মী যদি কোভিড দায়িত্ব পালনের সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তবে তাঁর পরিবারকে মরণোত্তর ১ কোটি টাকা এক্স-গ্রেশিয়া (Ex-gratia Compensation) দেওয়া হবে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিবনাথ প্রসাদকে এপ্রিল ২০২১-এ কোভিড সম্পর্কিত দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছিল। ওই মাসের ২৪ তারিখে তিনি সংক্রমিত হন এবং মাত্র চার দিন পর, ২৮ এপ্রিল তিনি মারা যান।
শিবনাথ প্রসাদের স্ত্রী ক্ষতিপূরণের আবেদন করলে শিক্ষা দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর ফাইলে ‘কিছু আপত্তি’র কারণ দেখিয়ে সেই আবেদন নাকচ করে দেন। পরে তিনি হাইকোর্টে যান, কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চও আবেদন খারিজ করে দেয়।
তবে ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে স্কুলের প্রধানশিক্ষকের একটি চিঠি পরীক্ষা করে দেখে, যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে শিবনাথ প্রসাদ কোভিড দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন এবং ভ্যাকসিন প্রশাসনের কাজেও যুক্ত ছিলেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে আদালত জানায়, তাঁর মৃত্যু সরাসরি সেই দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত।
আদালতের বার্তা
আদালত মন্তব্য করে, এমন কল্যাণমূলক নীতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা খুঁতখুঁতে মনোভাব দেখানো উচিত নয়। বরং নীতির পেছনের মূল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ পরিবারকে সুরাহা দেওয়া, সেটাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দিল্লি সরকার যেন আট সপ্তাহের মধ্যে ওই প্রধানশিক্ষক শিবনাথ প্রসাদের স্ত্রীর হাতে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য টাকা তুলে দেয়। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়া হয়, তবে সরকারকে বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদ-সহ সেই অর্থ দিতে হবে।