মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) জানিয়ে দিল, জামিন হবে না। তাঁদের সঙ্গে আরও সাত অভিযুক্তের জামিনের আবেদনও (Bail Denied) খারিজ হয়ে গেল।

উমর খালিদ
শেষ আপডেট: 2 September 2025 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার (Delhi Riot) 'বড়সড় ষড়যন্ত্র' মামলায় ফের ধাক্কা খেলেন উমর খালিদ (Umar Khalid Bail Plea) ও শরজিল ইমাম। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) জানিয়ে দিল, জামিন হবে না। তাঁদের সঙ্গে আরও সাত অভিযুক্তের জামিনের আবেদনও (Bail Denied) খারিজ হয়ে গেল।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নবীন চাওলা ও শালিন্ডর কৌরের ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এই মামলা ওঠে। এ দিন জামিন খারিজ হয়েছে— শরজিল ইমাম, উমর খালিদ, মহম্মদ সেলিম খান, শিফা উর রহমান, আথার খান, মীরান হায়দার, শাদাব আহমেদ, আবদুল খালিদ সইফি, গালফিশা ফাতিমার।
আগে আর এক অভিযুক্ত তসলিম আহমেদের জামিনও খারিজ করেছিল হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ।
ঘটনা হল, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ঘিরে যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে প্রাণ হারান ৫০-রও বেশি মানুষ, আহত হন ৭০০ জনের বেশি। দিল্লি পুলিশের দাবি, ওই দাঙ্গার পিছনে 'বড় ষড়যন্ত্র' ছিল। আর সেই ষড়যন্ত্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ই নাকি উমর খালিদ, শরজিল ইমাম এবং তাঁদের সঙ্গীরা। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ইউএপিএ (Unlawful Activities Prevention Act)-র আওতায়।
এদিন আদালতে উমর খালিদদের আইনজীবীরা জানান, তাঁরা ইতিমধ্যেই চার বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে। বিচারপ্রক্রিয়ার ধীর গতির কারণে তাঁদের জামিন দেওয়া হোক। কিন্তু সরকার পক্ষের আইনজীবী তথা সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা কড়া আপত্তি জানান। তাঁর যুক্তি, “এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা। যারা জাতির বিরুদ্ধে কাজ করবে, তাদের মুক্তি নয়— রায় ঘোষণার আগে পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে।”
উমর খালিদ বলেন, কেবলমাত্র কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে থাকার অর্থ অপরাধে জড়িত থাকা নয়। তাঁর কাছ থেকে কোনও নথি, অর্থ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শরজিল ইমামের দাবি, তিনি অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখতেন না। তাঁর বক্তৃতা বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কোথাও হিংসা উস্কে দেওয়ার প্রমাণ নেই।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে জেলে বন্দি আছেন উমর খালিদ। তবে গত বছর ডিসেম্বর মাসে পরিবারের এক বিয়েতে যোগ দিতে সাত দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন তিনি। শরজিল ইমামের জামিন আবেদনও ২০২২ সাল থেকে ঝুলে ছিল। এ দিন তা খারিজ হওয়ায় আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শীঘ্রই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবেন।