দিল্লির ন্যাশনাল ক্র্যাফটস মিউজিয়াম ও হস্তকলা আকাদেমিতে ২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 September 2025 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর পেরিয়ে গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের (India Bangladesh) সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। তবে গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের (Sheikh Hasina) পতনের পর দুই দেশের সাধারণ নাগরিক যেভাবে বিষোদ্গারে মেতেছিল সেই উত্তেজনাময় পরিস্থিতির অনেকটাই কমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লিতে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি (Bangladeshi Saree) জামদানি (Jamdani Saree) শাড়ির প্রদর্শনী ও বিক্রি। দিল্লির ন্যাশনাল ক্র্যাফটস মিউজিয়াম ও হস্তকলা আকাদেমিতে ২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। চারদিনের এই আয়োজনে প্রধান উদ্যোক্তা দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশন (Bangladesh High Commission)।

শুধু বাঙালির দুর্গাপুজোই (Durga Puja) নয়, চলতি মাসের শেষ থেকে গোটা ভারতই উৎসবে মাতবে। নবরাত্রি, দীপাবলির মতো একাধিক জাতীয় উৎসব চলবে। একই সময়ে আছে মুসলিম, শিখ, বৌদ্ধদের নানা উৎসব-অনুষ্ঠান।
শুধু বাঙালি নারীরাই নয়, উৎসবে শাড়ি পরেন অবাঙালি মহিলারাও। এই সময় জামাদানির প্রদর্শনীর আয়েজন করে ভারতের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু করল দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশন। হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মঙ্গলবার সকালে এক্স পোস্টে এই প্রদর্শনীর আয়োজনের কথা জানিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ভারত সরকারও এই উদ্যোগে সায় দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

জামদানি সীমান্তের দু পারেই বাঙালি নারীর অত্যন্ত পছন্দের। তবে আন্তর্জাতিক নানা স্বীকৃতির সূত্রে বাংলাদেশের জামদানি নিয়ে চর্চা বেশি। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের আরজি মেনে জামদানিকে জিআই পণ্য হিসাবে ২০১৬ সালে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর তিন বছর আগে ২০১৩ সালে ইউনেস্কো জামদানিকে 'ইনট্যানজিবল হেরিটেজ অব বাংলাদেশ' বলে ঘোষণা করে।
সম্পূর্ণ হাতে বোনা এই জামদানির কাপড় দিয়ে শুধু শাড়ি নয়, ওড়না, পাঞ্জাবি, কুর্তা ইত্যাদিও তৈরি করা হয়ে থাকে।
গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বেশ কয়েক মাস ধরে চলা অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকায় আন্তর্জাতিক শিল্প মেলায় 'বয়কট ইন্ডিয়া' স্লোগানের মধ্যেই ভারতের প্যাভেলিয়নে ভিড় উপচে পড়েছিল। বিশেষ করে কম বয়সি বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল দেখবার মতো। যদিও শেখ হাসিনার সরকারকে বিতাড়নের সঙ্গে জুড়ে ছিল ভারত ও ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাকও।
কূটনৈতিক মহলের মতে, 'পিপলস টু পিপলস' বা দু দেশের জনগণের সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে প্যাভেলিয়নের ওই দৃশ্য ছিল তার উপযুক্ত প্রমাণ। বোঝা গিয়েছিল, ভারত বিরোধিতার ডাক উপেক্ষা করে শিল্পমেলায় ভারতীয় পণ্য কেনার তাগিদ গোপন না করার মানুষ নেহাৎ কম নেই সে দেশে।

যেমন, দু-দেশের সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ পেতে আগ্রহী এপারের, এমনকী দিল্লির বাঙালি ও আমিষাশী অবাঙালিীাও। এখন দেখার বাংলাদেশি জামদানি দিল্লিতে কতটা সাড়া খেলতে পারে। দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশন খুবই আশাবাদী।