মধ্যমগ্রাম নজরুল মঞ্চে স্বাধীনতা দিবসে উপস্থাপিত হল অংশুমান করের দীর্ঘ কবিতা অবলম্বনে শ্রুতিদৃশ্যায়ন ‘দেশছাড়া দেশহারা’। কলকাতা কল্পকের প্রযোজনা এই মঞ্চায়নে ফুটে উঠল দেশভাগ, দাঙ্গা ও মানবতার বার্তা।
.jpeg.webp)
শ্রুতিদৃশ্যায়ন ‘দেশছাড়া দেশহারা’
শেষ আপডেট: 24 August 2025 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই স্বাধীনতার ৭৯তম দিবসে মধ্যমগ্রাম নজরুল মঞ্চে দেখা গেল এক অন্য আখ্যান। উপস্থাপিত হল শ্রুতিদৃশ্যায়ন ‘দেশছাড়া দেশহারা’, প্রযোজনা করেছে কলকাতা কল্পক।

কবি অংশুমান করের দীর্ঘ ডকু-কবিতা 'দেশছাড়া দেশহারা'র উপর ভিত্তি করে এই প্রযোজনা নির্মিত। কবিতাটিতে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর সময় পর্যন্ত এপার-ওপার বাংলার মানুষের উদ্বাস্তু জীবনের যন্ত্রণা, স্বপ্নভঙ্গ আর লড়াইকে কাব্যের ছন্দে বেঁধেছেন কবি।
এক ঘণ্টা দশ মিনিট দীর্ঘ এই প্রযোজনায় কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে ওঠেন মহাত্মা গান্ধী, যিনি দেশভাগ চাননি। মঞ্চায়ন দেখায়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কিভাবে হাজারো নিরীহ মানুষের প্রাণ-স্বপ্ন বলি হয়েছিল, কিভাবে মুনাফার রাজনীতিতে লাগানো হয়েছিল দাঙ্গার আগুন।

অভিনয়, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও আলোর সমন্বয়ে বাস্তব চরিত্রগুলো যেন মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে। দাঙ্গার বিবরণ যখন আবৃত্তিতে শোনা যায়, তখন সাইক্লোরামায় ফুটে ওঠে দাঙ্গার ভয়াবহ দৃশ্য। কিশোরগঞ্জের ট্রেন দুর্ঘটনার আবহ দর্শকদের হৃদয়ে ধাক্কা দেয় আলোক ও প্রজেকশনের দক্ষ ব্যবহারে।
প্রযোজনায় উঠে আসে, দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ভিড়ে শিশু মৃত্যুর করুণ ছবি, কিংবা দেশভাগের পর নিজের পরিচয় জানার ধাক্কায় ইসমাইলের আত্মহত্যার মতো গল্প। তবে সবশেষে কাব্যিক দৃশ্যায়ন থামে এক সম্প্রীতির সুরে, যেখানে ধর্মপরিচয়ের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে মানবিকতার বার্তা।

বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে সৌমেন চক্রবর্তীর আলো-নকশা, যা পুরো প্রযোজনাকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে। আলো এখানে শুধু প্রযুক্তিগত উপাদান নয়, বরং যেন কবিতারই এক অঙ্গ।

পরিচালক গার্গী সেনগুপ্ত ও তরুণ ভট্টাচার্য শুধু পরিচালনাতেই নয়, আবৃত্তি ও অভিনয়েও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। পুরো প্রযোজনা এক অসাধারণ দলগত প্রয়াসের নিদর্শন হয়ে রইল।