ডিজি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে রাজ্য সরকারকে সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকদের একটি তালিকা ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) কাছে পাঠাতে হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য পুলিশের ডিজি (WBP DG) নিয়োগ ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করল না দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। মূল মামলাকারী আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (CAT) থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ায়, এই অবস্থায় মামলার আর গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে প্রাথমিকভাবে মত দিল আদালত। বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল ও বিচারপতি অমিত মহাজনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, মামলার ভিত্তিই যখন আর নেই, তখন তা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে আদালতের কিছু করার নেই।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (WBP DG) পদকে ঘিরে সাম্প্রতিক কালে প্রশাসনিক ও আইনি স্তরে বেশ কিছু টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্য পুলিশের কোনও স্থায়ী ডিজি নেই। এতদিন রাজীব কুমার (Rajeev Kumar) ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, গত ৩১ জানুয়ারি রাজ্য সরকার নতুন করে ভারপ্রাপ্ত ডিজি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী ১৯৯৩ ব্যাচের আইপিএস অফিসার পীযূষ পাণ্ডেকে (Piyush Pandey) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল ও ইনস্পেক্টর জেনারেল (ডিজি ও আইজি)-এর ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আপাতত তিনিই রাজ্য পুলিশের শীর্ষ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন।
ডিজি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে রাজ্য সরকারকে সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকদের একটি তালিকা ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (UPSC) কাছে পাঠাতে হয়। ইউপিএসসি সেই তালিকা থেকে তিন জন আধিকারিকের নাম বেছে নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠায়। পরে রাজ্য সরকার ওই তিন জনের মধ্য থেকে একজনকে স্থায়ী ডিজি হিসেবে নিয়োগ করে। বর্তমানে যে প্যানেলটি আলোচনায় রয়েছে, তাতে রাজীব কুমারের পাশাপাশি মামলাকারী আইপিএস রাজেশ কুমার এবং আরও ছয় জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের নাম ছিল। ওই তালিকায় ছিলেন রণবীর কুমার, দেবাশিস রায়, অনুজ শর্মা, জগমোহন, এন রমেশ বাবু ও সিদ্ধিনাথ গুপ্ত।
তবে স্থায়ী ডিজি নিয়োগের এই প্রক্রিয়া প্রথমবার আটকে যায়নি। এর আগেও রাজ্য সরকার ইউপিএসসির কাছে একটি প্যানেল পাঠিয়েছিল। কিন্তু আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। ইউপিএসসির তরফে জানানো হয়, বিধি অনুযায়ী পূর্ববর্তী স্থায়ী ডিজির অবসর গ্রহণের অন্তত তিন মাস আগে প্রস্তাবিত নামের তালিকা পাঠানো আবশ্যক। সে হিসেবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ওই প্যানেল পাঠানো উচিত ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার তালিকাটি পাঠায় ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়সীমা মানা না হওয়ায় ইউপিএসসি সেই প্যানেল ফেরত পাঠায়।
এই সমস্ত প্রেক্ষাপটেই ডিজি নিয়োগ নিয়ে একাধিক আইনি প্রশ্ন উঠেছিল। তবে মূল মামলাকারী মামলা তুলে নেওয়ায় দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার কোনও অর্থ নেই। ফলে রাজ্য পুলিশের ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক আপাতত আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রশাসনিক স্তরেই নিষ্পত্তির পথে এগোবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।