দেশের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলকে (DCGI) এই ওষুধগুলির গুণাগুণ, এদেশের পরিবেশ ও জনসাধারণের উপযোগী কিনা তা যাচাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 3 July 2025 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমানোর যেসব ওষুধ বাজারে বিক্রি হয়, তা পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। দেশের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলকে (DCGI) এই ওষুধগুলির গুণাগুণ, এদেশের পরিবেশ ও জনসাধারণের উপযোগী কিনা তা যাচাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রসঙ্গত, আদালতের কাছে এই ওজন কমানোর ওষুধ বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এদেশে কীভাবে এই ওষুধ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হল এবং তা কোনও বিধিসম্মত নির্দেশ ছাড়াই খোলাবাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
আদালত এ ব্যাপারে ডিসিজিআইকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে। কোনও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করার আগে সকলের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত জেনে নেওয়ার সুপারিশ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, এলি লিলি-র (Eli Lilly) মউনজারো (Mounjaro) এবং নোভো নরডিস্কের (Novo Nordisk) ওয়েগোভি (Wegovy) নামে জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ভারত। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জিতেন্দ্র চৌকসে নামে একজন জনস্বার্থ আবেদন করেন আদালতে। অভিযোগে তিনি বলেছেন, কোনও প্রয়োজনীয় তথ্য অথবা ভারতে নির্দিষ্টভাবে কোনও সমীক্ষা বা পরীক্ষা না চালিয়ে এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কাঠামো ও শারীরিক অবস্থাকে অগ্রাহ্য করে, সর্বোপরি জিনগত সমস্যার বিচার না করে ওজন কমানোর ওষুধ ভূরি ভূরি বিক্রি হচ্ছে।
আবেদনে ওষুধ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন চৌকসে। অনলাইন হেল্থ ও ফিটনেসের উপর একটি মাধ্যম FITTR-এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন চৌকসে। জনস্বার্থ আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তুষার রাও গেডেলাকে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীকে ডিসিজিআইয়ের কাছে একজন প্রতিনিধি পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোলারকে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে আদালত।
লিলি মউনজারো বাজারে নিয়ে আসে মার্চ মাসে এবং ডেনমার্কের ওষুধ নির্মাতা সংস্থা নোভো নরডিস্ক ওয়েগোভি বিক্রি শুরু করে জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। ইঞ্জেকশনের মতো এই ওষুধ সপ্তাহে একবার নিতে হয়। শুধু তাই নয়, ওজন কমানোর এই ওষুধ কেবলমাত্র সেইসব স্থূলকায় ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত যাঁদের বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ৩০ অথবা তার বেশি। ওজন সংক্রান্ত টাইপ টু ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার অথবা হাই কোলেস্টেরল যুক্ত বিএমআই ২৭-এর উপরের লোকও এই ইঞ্জেকশন নিতে পারে, শুধুমাত্র ডাক্তারের নির্দেশে।
কিন্তু, বিজ্ঞাপনের চটকে এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রচারের চোটে এই ওষুধ আলু-পটলের মতো বিক্রি হতে শুরু করেছে। অনেকেই বিধিনিষেধ না জেনেই ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছেন। সহজে পরিশ্রম ছাড়াই ওজন কমানোর পথে হাঁটছেন অর্থবান ব্যক্তিরা। ভারতে এখনই প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং তার মধ্যে বেশিরভাগ মোটাত্ব রোগে ভুগছেন। তাই আচমকাই এই ওষুধের কদর বেড়ে গিয়েছে, কোনওরকম ভবিষ্যৎ চিন্তা না করেই।