দেশে যে হারে বায়ুদূষণ হচ্ছে, তাতে এই মুহূর্তে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ জারি করা উচিত।
.jpeg.webp)
গ্রামাঞ্চলের মানুষও বায়ুদূষণের জেরে এখনকার দিনে সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শেষ আপডেট: 6 November 2025 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ ঠেকাতে পদক্ষেপের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ আবেদন জমা পড়ল। আবেদনকারী হলেন লিউক ক্রিস্টোফার কুটিনহো (ভারতের প্রধানমন্ত্রীর, ফিট ইন্ডিয়া মুভমেন্টের ওয়েলনেস চ্যাম্পিয়ন)। আবেদনে তিনি বলেছেন, দেশে যে হারে বায়ুদূষণ হচ্ছে, তাতে এই মুহূর্তে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ জারি করা উচিত। শুধু শহরে নয়, গ্রামাঞ্চলের মানুষও বায়ুদূষণের জেরে এখনকার দিনে সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আবেদনকারী সমস্যা বোঝাতে বলেছেন, অনেক নীতিগত কর্মসূচি, পরিকল্পনা সত্ত্বেও সুস্থ, উন্নতমানের বাতাস গ্রহণ করতে পারছে না মানুষ। দেশের গ্রামীণ ও নাগরিক সমাজের অধিকাংশ এলাকার বাতাসই শুধু খারাপ নয়, বেশ কিছু জায়গায় খুব খারাপ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। তিনি দাবি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের বায়ুদূষণ কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় বর্ণিত জীবন ও স্বাস্থ্যরক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন আবেদনে।
আবেদনে কুটিনহো দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু ইত্যাদি বড় শহরের দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, এইসব শহরে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ সহনশীল মাত্রার অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে। যেখানে এই ধরনের ধূলিকণার সূচক একটি ৪০ এবং অন্যটি ৬০-এর মধ্যে থাকা উচিত। সেখানে দিল্লিতে তা রয়েছে ১০৫, কলকাতায় ৩৩ এবং লখনউয়ে ৯০য়ে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতে এই পরিমাপক মাত্রা অনেক বেশি করে ধরা হয়। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাবিত মাত্রা মাত্র ৫ এবং ১৫।
আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি মানুষ রোজ বিষাক্ত বায়ুসেবন করছেন। শুধু দিল্লিতেই ২২ লক্ষ স্কুলছাত্রের ইতিমধ্যেই ফুসফুসের ক্ষতি হয়েছে, যা সারানো সম্ভব নয় বলে সরকারি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সমীক্ষাগুলিই বলেছে। তিনি আরও বলেছেন, দেশের বায়ুদূষণ পরিমাপক যন্ত্রও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শহরাঞ্চলে অন্তত ২৮০০ এবং গ্রামাঞ্চলে ১২০০ দূষণ পরিমাপক কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত। কিন্তু, কোনওদিনই তা গড়ে তোলা যায়নি।
ভারত স্টেজ ফোর গাড়ি নিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, অনুমোদিত সীমার থেকে অনেক গুণ নাইট্রোজেন অক্সাইড দূষণ ঘটে থাকে। ৩.২ গুণ বেশি অটোয়, গাড়িতে দ্বিগুণ, ট্যাক্সিতে ৫ গুণ এবং বাসের ক্ষেত্রে তা ১৪ গুণ বেশি দূষণ ছড়ায়। এইভাবে বিধিভঙ্গের পরেও এ পর্যন্ত পরিকল্পিত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, ২০১৯ সালে দিল্লিতে বায়ুদূষণ আইনে একটিও ফৌজদারি মামলা হয়নি।