মেঘালয়ের তাসখাই এলাকায় কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত অন্তত ১০ জন শ্রমিক। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো খনির চত্বর, উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে।

মেঘালয় বিপর্যয়
শেষ আপডেট: 5 February 2026 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেঘালয়ের তাসখাই (Tashkhai) এলাকায় কয়লাখনিতে (Coal Mine) ভয়াবহ ধস। ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজনের খোঁজ মিলছে না। আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। বিস্ফোরণের ঠিক পরেই খনির মুখ থেকে কালো ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়।
প্রথমিক রিপোর্ট বলছে, বিস্ফোরণের ঘটনাটা ঘটেছে খনির ভেতরেই। বিস্ফোরণের সময় বেশ কিছু শ্রমিক নেমে কাজ করছিলেন। তার মধ্যেই এমন হয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই অসম (Assam) থেকে আসা শ্রমিক। ঘটনার পরই তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু করেছে মেঘালয় পুলিশ (Meghalaya Police)। রয়েছেন দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলার কর্মীরাও। খনির ভেতরে কেউ আটকে পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খনিমুখের সামনে বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য ছিল আতঙ্কের। চারদিক ছাই-ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। শ্রমিকেরা ছুটোছুটি করতে থাকেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতেও দেখা গেছে, গল গল করে কালো ধোঁয়া (Black Smoke) বেরোচ্ছে খনি থেকে। চারিদিকে কান্নার রোল।
পুলিশ জানিয়েছে, যতদূর উদ্ধার করা গেছে, তাতে মৃতদের মধ্যে অন্তত এক জনের বাড়ি অসমের কথিগড়া (Katigorah) এলাকার বিহারা গ্রামে (Bihara Village) বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন অসমের শ্রমিক এই বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
মেঘালয় পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘উদ্ধারকাজ চলছে। খনির ভেতরের পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। গ্যাস জমে আছে কি না, বিস্ফোরণের আশঙ্কা আছে কি না—সব দিক দেখে এগোতে হচ্ছে।’
বিস্ফোরণের কারণ নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, খনির ভেতরে দাহ্য গ্যাস (Flammable Gas) জমে থাকা বা অবৈধভাবে বিস্ফোরক ব্যবহারের জেরেই এই বিপর্যয়। তবে তদন্ত শেষ না হলে কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
শ্রমিকদের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। আহত কেউ থাকলে তাঁদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।