স্বামীকে খুনের ঘটনায় ফের উঠে এল মেঘালয়ের স্মৃতি—প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে জোট বেঁধে স্বামীকে হত্যা করল তরুণী। সম্পর্কের টানাপোড়েনে তৈরি হল নয়া ‘হানিমুন মার্ডার’।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 February 2026 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে মনে হয়েছিল নিছকই হিট-অ্যান্ড-রান। রাতের রাস্তায় একটি অচেনা গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের, পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, আপাদমস্তক ছবিটা বদলে গেছে। পুলিশের দাবি, এটা দুর্ঘটনা নয়—ঠান্ডা মাথায় সাজানো খুন। তিন মাসের দাম্পত্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ঙ্কর চক্রান্ত। রাজস্থানের এই ঘটনাকে ইতিমধ্যেই ‘হানিমুন মার্ডার’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনাটি রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলার। শুক্রবার সন্ধ্যায় সদ্য বিবাহিত দম্পতি আশিস ও অঞ্জু বেরিয়েছিলেন হাঁটতে। অভিযোগ, সেই সময় একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মারে। আশিস ঘটনাস্থলেই মারা যান। অঞ্জু অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আশিসকে মৃত ঘোষণা করেন ও অঞ্জুর চিকিৎসা শুরু হয়।
প্রথমে অঞ্জু পুলিশকে জানান, একটি অচেনা গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মেরেছে। সঙ্গে দাবি করেন, তাঁর সোনার গয়নাও ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর ফরেনসিক রিপোর্টে অসংগতি ধরা পড়ে। মৃতদেহে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি শ্বাসরোধের লক্ষণ পাওয়া যায়। অন্যদিকে অঞ্জুর শরীরে প্রায় কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এখানেই সন্দেহ ঘনীভূত হয়।
প্রেমিকের সঙ্গে চক্রান্ত, সাজানো ‘দুর্ঘটনা’
শ্রীগঙ্গানগরের পুলিশ সুপার অমৃতা দুহান জানান, তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই অঞ্জুর বিরক্তি শুরু হয়েছিল। ভাল লাগছিল না স্বামীর সঙ্গ। তাই ফিরে যান নিজের বাড়ি এবং সেখানেই প্রাক্তন প্রেমিক সঞ্জু-র সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করে মেলামেশা শুরু করেন।
পুলিশের দাবি, এই সময়েই আশিসকে খুনের ছক কষা হয়। ৩০ জানুয়ারি রাতে অঞ্জু ইচ্ছাকৃতভাবে আশিসকে নির্জন রাস্তায় হাঁটতে নিয়ে যান। সেখানে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ছিল সঞ্জু ও তার দুই সঙ্গী—রকি ও বাদল। সুযোগ বুঝে আশিসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। মারধর ও শ্বাসরোধ করে খুনের পর ঘটনাকে দুর্ঘটনা দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
চক্রান্তকে বিশ্বাসযোগ্য করতে অঞ্জু নিজের মোবাইল ফোন ও কানের দুল অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন, যেন ছিনতাইয়ের গল্পটা দাঁড় করানো যায়। পরে তিনি অচেতন হওয়ার ভান করে রাস্তায় পড়ে থাকেন।
বদলাতে থাকা বয়ানেই ফাঁস রহস্য
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের সময় অঞ্জু বারবার নিজের বয়ান বদলাতে থাকেন। ফোনের কল ডিটেইলস থেকেও স্পষ্ট হয়, তিনি নিয়মিত সঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এই সব তথ্য মিলিয়েই পুরো ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হয়।
শেষ পর্যন্ত অঞ্জু, সঞ্জু ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, এটা নিছক পারিবারিক কলহ নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত খুন।
রাজা রঘুবংশী খুন কিছুদিন আগে সাড়া ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। সেই ঘটনাও এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে মনে হয় ছিনতাই করতে গিয়ে খুন করা হয়েছে কিন্তু পরে তদন্তে পুরো বিষয়টা খোলসা হয় এবং অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।