১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রামগড়হা পাহাড়ের কাছে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নুড়ি পাথর তোলা হচ্ছিল। ওই কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন গ্রামের সরপঞ্চ রামানুজ পাণ্ডে এবং তাঁর সহযোগীরা। তারই প্রতিবাদ করেন যুবক।

অভিযোগ জানাতে থানায় যুবক
শেষ আপডেট: 17 October 2025 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবৈধ খনির বিরোধিতা করেছিলেন। বদলে জুটল চরম অপমান ও নৃশংস অত্যাচার। মধ্যপ্রদেশের কাঠনি জেলার ঘটনা। ওই দলিত যুবকের ওপর প্রস্রাব করার অভিযোগও ওঠে। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়, নতুন করে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ক্রমবর্ধমান জাতিগত অসহিষ্ণুতা নিয়ে।
আক্রান্ত যুবকের নাম রাজকুমার চৌধুরী, বয়স ৩৬। তাঁর অভিযোগ, ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রামগড়হা পাহাড়ের কাছে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গ্রাভেল বা নুড়ি পাথর তোলা হচ্ছিল। ওই কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন গ্রামের সরপঞ্চ রামানুজ পাণ্ডে এবং তাঁর সহযোগীরা। রাজকুমার ওই খনির কাজের প্রতিবাদ জানালে তাঁকে প্রথমে হুমকি দেওয়া হয়, পরে যা না তাই বলে অপমান করা হয়।
এর পর, রাজকুমারের অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন রামানুজ পাণ্ডে, তাঁর ছেলে পবন পাণ্ডে, ভাইপো সতীশ পাণ্ডে এবং আরও কয়েকজন। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারা হয়। রাজকুমারের দাবি, 'আমাকে মারধরের সময় জাতিবিদ্বেষী গালাগাল দিয়েছে ওরা। মা বাঁচাতে এলে তাঁকেও চুলের মুঠি ধরে টেনে মাটিতে ফেলে মারে। এরপর রামানুজ পাণ্ডের ছেলে আমার গায়ের উপর প্রস্রাব করেন। গ্রামের লোকের সামনে আমাকে অপমান করা হয়।'
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসার পর থানায় আনা হয়। কাঠনির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সান্তোষ দেহারিয়া বলেন, 'অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মারধর ও তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।'
অভিযুক্ত সরপঞ্চ রামানুজ পাণ্ডে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, 'এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনও অবৈধ খনন হচ্ছিল না। আমরা পঞ্চায়েত ভবনের সংস্কার কাজের জন্য গ্রাভেল তুলছিলাম।'
এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২৩ সালের জুলাই মাসের সেই সিধির ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা, যেখানে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ প্রবেশ শুক্ল নামে এক ব্যক্তি এক আদিবাসী যুবকের উপর প্রস্রাব করেছিলেন। সেই সময় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল।
জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর (NCRB) ২০২৩ সালের রিপোর্ট বলছে, দেশজুড়ে তফসিলি জাতির বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত বছরই ভারতে মোট ৫৭,৭৮৯টি এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে শুধু মধ্যপ্রদেশেই ৮,২৩২টি মামলা। উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের পরই তালিকায় রয়েছে এই রাজ্যের নাম।