ধনকড় যেখানে ছিলেন সরব, আক্রমণাত্মক ও বিতর্কপ্রবণ, সেখানে রাধাকৃষ্ণণকে দেখা হচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো, শান্ত, স্থিতধী আরএসএস-ঘনিষ্ঠ নেতা।

ধনকড় ও সিপি রাধাকৃষ্ণণ
শেষ আপডেট: 18 August 2025 20:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'বছরের মাথায় জগদীপ ধনকড়ের (Jagdeep Dhankhar) জায়গায় বিজেপি (BJP) বেছে নিয়েছে সিপি রাধাকৃষ্ণণকে (CP Radhakrishnan)। ধনকড় যেখানে ছিলেন সরব, আক্রমণাত্মক ও বিতর্কপ্রবণ, সেখানে রাধাকৃষ্ণণকে দেখা হচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো, শান্ত, স্থিতধী আরএসএস-ঘনিষ্ঠ নেতা।
২০২২ সালে জাট আন্দোলনের আবহে ধনকড়কে বেছে নিয়েছিল বিজেপি। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট— জাট কৃষকদের বার্তা দেওয়া যে তাঁদের কণ্ঠস্বরও ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টক্কর সর্বদাই শিরোনামে ছিল। পরে রাজ্যসভার আসনে বসিয়ে বিজেপি তাঁকে একপ্রকার ‘কঠোর প্রহরী’র ভূমিকায় পাঠায়। ফলে বিরোধীদের কাছে ধনকড় হয়ে ওঠেন একেবারেই পক্ষপাতদুষ্ট মুখ।
কিন্তু এবারে ছবিটা একেবারে উল্টো। রাধাকৃষ্ণণকে নিয়ে বিজেপির কৌশল অনেকটাই ভিন্ন। দক্ষিণ ভারতে সংগঠন বাড়ানোর লক্ষ্যেই তাঁকে সামনে আনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। ১৭ বছর বয়সে আরএসএস ও জনসঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত হওয়া রাধাকৃষ্ণণ আদ্যোপান্ত ‘সঙ্ঘঘরানা’র মানুষ। ধনকড় যেখানে ছিলেন মূলত আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা, সেখানে রাধাকৃষ্ণণ অনেক বেশি মতাদর্শগতভাবে ঘনিষ্ঠ।
রাধাকৃষ্ণণণের কাজকর্ম এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট মেপে চলা। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র সঙ্গে দ্বন্দ্বে কেন্দ্রকে কৌশলে সমর্থন করেছেন, আবার মহারাষ্ট্রে বিতর্কিত বিল নিয়ে বিরোধীরা তাঁর হস্তক্ষেপ চাইলেও তিনি ছিলেন অনেক বেশি প্রাতিষ্ঠানিক ধাঁচের। ফলে সংসদের কাজকর্ম নির্বিঘ্ন রাখার ক্ষেত্রে তিনি অনেক বেশি উপযুক্ত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, ধনকড়ের আকস্মিক পদত্যাগ নিয়েও কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও তিনি স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। রাজনৈতিক মহল বলছে, বিজেপির এই নতুন পদক্ষেপে বার্তা স্পষ্ট— রাজ্যসভায় আর সংঘাত নয়, এবার প্রয়োজন সামঞ্জস্য আর সংলাপ।