এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের রাজনৈতিক পথচলা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। দল তাঁকে বেছে নিয়েছে একেবারেই ভিন্ন রাজনৈতিক প্রোফাইলের জন্য। কীভাবে তিনি নীরবে অন্যদের থেকে আলাদা— তিনটি দিকেই ধরা পড়ছে সেই ছবি।

সিপি রাধাকৃষ্ণণ
শেষ আপডেট: 18 August 2025 19:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপরাষ্ট্রপতি (Vice President) পদে এনডিএ (NDA) প্রার্থী হয়েছেন বিজেপি (BJP) নেতা তথা মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণ (CP Radhakrishnan)। দু'বার কোয়েম্বাটুর থেকে সাংসদ থাকা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের রাজনৈতিক পথচলা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। দল তাঁকে বেছে নিয়েছে একেবারেই ভিন্ন রাজনৈতিক প্রোফাইলের জন্য। কীভাবে তিনি নীরবে অন্যদের থেকে আলাদা— তিনটি দিকেই ধরা পড়ছে সেই ছবি।
প্রথমত, বেশ কয়েকজন রাজ্যপাল সাম্প্রতিক কালে রাজ্য সরকারের সঙ্গে টানাপড়েনে শিরোনামে এসেছেন। যেমন তামিলনাড়ুর আরএন রবি, পশ্চিমবঙ্গের সিভি আনন্দ বোস, অথবা প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় কিংবা সত্যপাল মালিক। এর মধ্যে রাধাকৃষ্ণণ একেবারেই অন্য ধাঁচের।
ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল থাকাকালীন বিরোধী ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংঘাতের পথে হাঁটেননি তিনি। বরং সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে মন দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হয়েও তাঁর ভূমিকা ছিল অনেকটাই নীরব ও সংযত। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে যে ধৈর্য, সংযম ও নিরপেক্ষতা প্রয়োজন— তার ইঙ্গিত তাঁর কাজের ধরনেই মেলে।
দ্বিতীয়ত, তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলায় জন্ম রাধাকৃষ্ণণের। আরএসএস কর্মী হিসেবে কিশোর বয়সেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু। পরে জনসংঘ হয়ে বিজেপিতে। ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ছিলেন তামিলনাড়ুর বিজেপি সভাপতি। ৯৩ দিন ধরে ১৯ হাজার কিমি নদী সংযোগ, সন্ত্রাস বিরোধিতা, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ নিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন।
শুধু তামিলনাড়ুই নয়, কেরলেও সক্রিয় ছিলেন রাধাকৃষ্ণণ। ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্যয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান। তৃণমূল স্তরে দীর্ঘদিনের কাজ তাঁকে বিজেপির কাছে ভরসাযোগ্য নেতায় পরিণত করেছে। যে কারণে অমিত শাহ পর্যন্ত জানিয়েছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা সংসদের উচ্চকক্ষকে সমৃদ্ধ করবে।
এবং তৃতীয়ত, রাধাকৃষ্ণণকে স্থানীয় রাজনীতিতে বলা হয় ‘কোয়েম্বাটুরের বাজপেয়ী’। তাঁর মিশুক স্বভাব ও সমঝোতার ক্ষমতা এর বড় কারণ। ১৯৯৯ সালে কোয়েম্বাটুর থেকে সাংসদ হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন ডিএমকের সমর্থনে। যদিও তখন কংগ্রেসের সঙ্গেই ডিএমকের জোট ছিল। এর আগে ১৯৯৮-এ জয় পেয়েছিলেন এআইএডিএমকের সমর্থনে, যারা আবার ডিএমকের প্রতিদ্বন্দ্বী।
মোদ্দা কথা, তিনবার (২০০৪, ২০১৪ ও ২০১৯) লোকসভা ভোটে পরাজিত হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা অটুট থেকেছে। তাছাড়া গৌন্ডার (ওবিসি) সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা রাধাকৃষ্ণণকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।