আর্থিক ক্ষতি ও আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অনলাইন গেমে রাতের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রাজ্যের আইন বৈধ।
.jpeg.webp)
অনলাইন গেমিংয়ে নিষেধাজ্ঞা।
শেষ আপডেট: 4 June 2025 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত ১২টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত অনলাইন রিয়েল মানি গেম খেলার ওপর সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। মঙ্গলবার একটি রায়ে আদালত জানিয়েছে, এই নিয়ম সাংবিধানিকভাবে বৈধ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এটি জরুরি।
হাইকোর্টের বিচারপতি এসএম সুব্রামনিয়ান এবং কে রাজশেখরের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, অনলাইন গেমের আসক্তি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আসক্তির ফলে বহু মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, ঋণের বোঝা বহন করতে পারছেন না এবং মানসিক অবসাদে ভুগে আত্মহত্যা করছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'তামিলনাড়ু সরকার আদালতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছে যে অনলাইন গেমে আসক্তি জনস্বাস্থ্যের সংকট সৃষ্টি করেছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জন ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন, যাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে অনলাইন গেমে অর্থ হারানো সরাসরি যুক্ত।'
এই পরিস্থিতিতে একাধিক অনলাইন গেমিং কোম্পানি আদালতে আবেদন করে জানায়, অনলাইন গেম সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রাজ্যের এক্তিয়ারে পড়ে না, এটি কেন্দ্রের অধিকার। তারা চেয়েছিল তামিলনাড়ু অনলাইন গেমিং অথরিটি (রিয়েল মানি গেমস) রেগুলেশনস, ২০২৫ আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে।
তবে আদালত এই যুক্তি খারিজ করে বলেছে, 'জনস্বাস্থ্য ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংবিধানের আওতায় রাজ্যের ক্ষমতা আছে। তামিলনাড়ুর মতো স্পষ্ট ও গুরুতর পরিস্থিতিতে এই আইন বৈধ।'
আদালত আরও জানিয়েছে, অনলাইন রিয়েল মানি গেম খেলার ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের বেশি) প্রমাণের জন্য আধার-ভিত্তিক যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে আইনিভাবে। এই নির্দেশ শিশু ও কিশোরদের বিশেষ করে এমন ঝুঁকিপূর্ণ গেমিং থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে আদালত।
তবে একথা মানতেই হবে, এই রায় অনলাইন গেমিং ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় ধাক্কা। 'ব্ল্যাঙ্ক আওয়ার' বা রাত ১২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা সরাসরি ব্যবহারকারীর অংশগ্রহণ ও গেমিং কোম্পানির রাতের আয় কমাবে। আধার যাচাই প্রক্রিয়া আরও একধরনের রেগুলেটরি বাধা হিসেবে এসেছে, যা ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকারে প্রভাব ফেলবে।
গেমিং সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা এই রায়ে হতাশ। তাদের দাবি, এটি রাজ্যের অতিসক্রিয় হস্তক্ষেপ, যা বৈধ ব্যবসার ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।