এই ঘরেই বসে আছেন এক মা - যিনি নিজের সন্তানকে কখনও বুকের দুধ খাওয়াতে পারেননি। চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুকে খাওয়ানো হচ্ছিল প্যাকেটের দুধ, তার সঙ্গে সামান্য কলের জল মিশিয়ে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 January 2026 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোরের (Indore) ভাগীরথপুরার সরু গলিতে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধা ফিসফিস করে একই কথা বলে চলেছেন - ভগবান দশ বছর পরে সুখ দিয়েছিলেন, ভগবানই সেটা কেড়ে নিলেন।
এই ঘরেই বসে আছেন এক মা (Mother) - যিনি নিজের সন্তানকে কখনও বুকের দুধ খাওয়াতে পারেননি। চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুকে খাওয়ানো হচ্ছিল প্যাকেটের দুধ (Packeted Milk), তার সঙ্গে সামান্য কলের জল (Water) মিশিয়ে। সেই জলই শেষ পর্যন্ত বিষ হয়ে উঠল। পাঁচ মাস পনেরো দিনের অব্যয়ান সাহু চলে গেল না ফেরার দেশে।
ভাগীরথপুরা এলাকায় দূষিত জল (Contaminated Water) পান করে একাধিক মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর মিলেছে। সেই তালিকায় সবচেয়ে ছোট নামটি অব্যয়ানের। তার বাবা সুনীল সাহু একটি বেসরকারি কুরিয়ার সংস্থায় (Private Company) কাজ করেন। দীর্ঘ দশ বছরের অপেক্ষার পর গত ৮ জুলাই জন্ম নেয় তাঁদের ছেলে, মেয়ে কিঞ্জলের জন্মের ঠিক দশ বছর পরে। পরিবারে আনন্দ ফিরেছিল।
শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। কোনও জন্মগত সমস্যা ছিল না। কিন্তু দু’দিন আগে হঠাৎ জ্বর ও ডায়রিয়া শুরু হয়। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, ওষুধও দেওয়া হয়। তবু অবস্থার উন্নতি হয়নি। রবিবার রাতে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। সোমবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় অব্যয়ানের।
সুনীলের অভিযোগ, কেউ তাঁদের জানায়নি যে জল দূষিত (Contaminated Water)। জল ছেঁকে নেওয়া হত, ফিটকিরি দেওয়া হত। পাড়ার সবাই একই লাইনের জল ব্যবহার করছিল। কোনও সতর্কতা, কোনও ঘোষণা, কিছুই করা হয়নি।
“আমার মনে হয় দুধে যে জল মিশিয়েছিলাম, সেটাই ওকে মেরে ফেলেছে,” বলেন সুনীল। “ডাক্তার বলেছিলেন প্যাকেটের দুধে জল মিশিয়ে দিতে। আমরা নর্মদার কলের জলই ব্যবহার করেছি। ভাবতেই পারিনি জল এতটা নোংরা। দু’দিন ডায়রিয়া ছিল। ওষুধ দিচ্ছিলাম। হঠাৎ সব শেষ। পরে পাড়ার লোকজন বলল, জলটাই খারাপ,” বলেন তিনি।
বৃদ্ধা ঠাকুমার কণ্ঠে অভিযোগ নেই, আছে নিস্তব্ধ আত্মসমর্পণ। “আমরা গরিব মানুষ। ছেলে চাকরি করে সংসার চলে। কাকে দোষ দেব? ভগবান সুখ দিয়েছিলেন… আবার নিয়ে নিলেন,” বলেন তিনি।
ঘরের ভিতরে শিশুর মা কখনও সংজ্ঞাহীন, কখনও চোখ মেলে তাকিয়ে থাকেন শূন্যে। দশ বছরের কিঞ্জল চুপ করে বসে থাকে - যেন বুঝে গিয়েছে, এমন কিছু ভেঙে গেছে, যা আর কোনওদিন জোড়া লাগানো যাবে না।