বিদেশমন্ত্রীর (Foreign Minister) কথায়, কী ভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করা হবে, তা সম্পূর্ণ ভারতের সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “কেউ আমাদের বলে দিতে পারে না, কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
শেষ আপডেট: 2 January 2026 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে দেশের আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে কোনও আপস নেই, স্পষ্ট ভাষায় জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। শুক্রবার আইআইটি মাদ্রাজে (IIT Madras) পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় জয়শঙ্কর বলেন, “খারাপ প্রতিবেশীও থাকতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ক্ষেত্রে সেটাই সত্যি।”
পশ্চিমের প্রতিবেশীর (Pakistan) দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, কোনও দেশ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে, ধারাবাহিক ভাবে এবং অনুশোচনা ছাড়াই সন্ত্রাসবাদকে মদত দিতে থাকে, তা হলে ভারতের জনগণকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে ভারতের। এবং দেশ সেই অধিকার প্রয়োগ করবে।
বিদেশমন্ত্রীর (Foreign Minister) কথায়, কী ভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করা হবে, তা সম্পূর্ণ ভারতের সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “কেউ আমাদের বলে দিতে পারে না, কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়। নিজেদের সুরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।” তাঁর এই মন্তব্যকে সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষিতেই দেখা হচ্ছে। গত বছর পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোর উপর আঘাত হেনেছিল ভারত। ওই হামলার দায় ছিল লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের।
আলোচনায় উঠে আসে সিন্ধু জলচুক্তির প্রসঙ্গও। ১৯৬০ সালের এই জলবণ্টন চুক্তি পহেলগাম হামলার পর স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এ প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “অনেক বছর আগে আমরা জল ভাগাভাগির চুক্তিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু যদি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস চলতেই থাকে, তা হলে সুপ্রতিবেশীর সম্পর্ক থাকে না। আর সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক না থাকলে তার সুফলও পাওয়া যায় না। এক দিকে জল চাইবেন, অন্য দিকে সন্ত্রাস চালাবেন— এই দুটো জিনিস একসঙ্গে চলতে পারে না।”
বস্তুত, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্যের আদানপ্রদান সম্পন্ন হয়েছে বৃহস্পতিবার। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি দুই দেশই নিজেদের পরমাণু কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর তালিকা একে অপরকে জানিয়ে থাকে। চলতি বছরে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও, সেই নিয়মে কোনও ছেদ পড়েনি।
১৯৮৮ সালে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু কেন্দ্র সংক্রান্ত যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট করে বলা রয়েছে—যে পরিস্থিতিই তৈরি হোক না কেন, একে অপরের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালানো যাবে না। পাশাপাশি, চুক্তিবদ্ধ কোনও দেশের কারণে যাতে অন্য দেশের পরমাণু কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য বিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদে অবস্থিত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রের তালিকা ভাগ করে নিয়েছে। পরমাণু কেন্দ্রে হামলা নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত চুক্তির বিধান মেনেই এই তালিকা বিনিময় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।