মঙ্গলবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। বুধবার যোগ দিলেন বিজেপিতে। অসমের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রদ্যোৎ বরদলৌয়ের দলত্যাগ ঘিরে চরম অশান্তি শুরু হয়েছে রাজ্য পার্টিতে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক্সে এক পোস্টে বরদলৌয়ের দলত্যাগের সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

শেষ আপডেট: 18 March 2026 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। বুধবার যোগ দিলেন বিজেপিতে। অসমের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রদ্যোৎ বরদলৌয়ের দলত্যাগ ঘিরে চরম অশান্তি শুরু হয়েছে রাজ্য পার্টিতে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক্সে এক পোস্টে বরদলৌয়ের দলত্যাগের সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক হলে মন্তব্য করেছেন।
দলের শীর্ষ কিংবা রাজ্য স্তরের নেতারা কেউ মুখ না খুললেও ওয়াকিবহাল মনে করছে এই প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ দল ছাড়ার ফলে বিধানসভা ভোটে দলকে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে হবে। অসমে কংগ্রেসের শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত তরুণ গগৌ। তিনি বেঁচে থাকাকালীনই প্রদ্যোৎ বরদলৌকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর উত্তরসুরি মনে করা হত। সেই তিনি বুধবার দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হাত থেকে গেরুয়া পতাকা নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন।
অসম থেকে লোকসভায় কংগ্রেসের তিন সাংসদের একজন প্রদ্যোৎ বরদলৌ। কংগ্রেসের প্রাক্তন এই মন্ত্রী তথা বর্তমান এমপি মঙ্গলবারই দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে লেখা চিঠিতে বলেন, দলে অসম্মানিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন তিনি। তবে সাংসদ পদ ছাড়েননি। দলীয় সভাপতিকে চিঠি লিখে ইস্তফা দেওয়ার বিষয়টিও প্রকাশ্যে জানাননি। সে কথা সরকারিভাবে নিজে ফাঁস করেন বিজেপিতে যোগদানের পর।
যদিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল খাড়্গেকে লেখা তাঁর চিঠির কপি। এরপরই অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্যেই প্রদ্যোৎকে পদ্ম শিবিরে স্বাগত জানান। গত এক বছরে অসম কংগ্রেসের দু'জন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দল ছেড়েছেন। দুজনই বিজেপিতে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার রাতেই দিল্লিতে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অসম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ এবং ওই রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসির জেনারেল সেক্রেটারি জিতেন্দ্র সিং।
বৈঠক শেষে গৌরব গগৈ দাবি করেছিলেন, প্রদোৎ বরদলৈ দলেই আছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার করছেন। যদিও সোমবারই দিল্লি পৌঁছে প্রদ্যোৎ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন।
প্রদ্যোতের ক্ষোভের একটি কারণ তাঁর উপর হামলাকারীদের প্রতি দলের নরম মনোভাব। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রচারের সময় তাঁর উপর হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ধৃত ব্যক্তি গত মাসে জামিনে মুক্তি পান। প্রদ্যোতের বক্তব্য, ওই আসামিকে জেল গেটে ফুল মালা দিয়ে বিপুল সম্বর্ধনা জানায় দলের একাংশ। শুধু তাই নয়, ওই দুষ্কৃতির ঘনিষ্ঠ একজনকে এবার বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হয়েছে। যদিও হামলার পর দলের তরফে ওই ঘটনার জন্য শাসক দল বিজেপির দিকে আঙুল তোলা হয়েছিল।
বরদলৌয়ের সঙ্গে রাজ্য কংগ্রেসের একাংশের আরও একটি বিষয়ে দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। তিনি কেরলের কংগ্রেস নেতা শশী তারুরের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসাকে দু'হাত তুলে সমর্থন করেছেন। নানা প্রশ্ন সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের।
বিক্ষুব্ধ এই সাংসদ গত সোমবার থেকে দিল্লিতে ছিলেন। আজ বুধবার কংগ্রেস সভাপতি খাড়্গে তাঁকে ডেকে কথা বলেন কিনা সেদিকে সকলের নজর ছিল। কিন্তু খাড়্গে দিনভর নীরব ছিলেন। কংগ্রেস হাই কমান্ডের তরফে কোন শীর্ষ নেতাই বরদলৌকে আটকানোর চেষ্টা করেননি। তবে একাধিক সূত্রের খবর, অসম কংগ্রেসের প্রভাবশালী এই নেতা বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন বুঝতে পেলেই দল তাঁকে থেকে যেতে পীড়াপিড়ি করেনি।