সংসদে গত কয়েকদিন বিরোধীদল গুলি সরকারের নানা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই প্রতিবাদের এক পর্বে সংসদে সদর দরজা আটকে প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলের সংসদেরা।

শেষ আপডেট: 18 March 2026 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) আচরণ মোটেই তাঁর পদ মর্যাদা ও সংসদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়। কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীকে (Sonia Gadhi) কার্যত এই ভাষাতেই চিঠি লিখেছেন জনতা দল সেকুলারের সভাপতি তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া। রাজ্যসভার সদস্য দেবগৌড়ার মেয়াদ শেষ হবে আগামী জুন মাসে। বিদায় বেলায় তিনি কংগ্রেসসহ বিরোধী দল গুলির সংসদে আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। সংসদীয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছেন নবতিপর এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পুত্র এইচডি কুমারস্বামী বর্তমানে মোদী সরকারের মন্ত্রী। পিতা পুত্র দুজনেই কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
সংসদে গত কয়েকদিন বিরোধীদল গুলি সরকারের নানা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই প্রতিবাদের এক পর্বে সংসদে সদর দরজা আটকে প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলের সংসদেরা।
দেবগৌড়া সনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠিতে কংগ্রেসসহ বিরোধী সাংসদদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। বলেছেন আমি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় বিরোধীরা অনেক প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু কখনও অধিবেশন পক্ষের সদর দরজা আটকে দাঁড়াতে দেখিনি কাউকে। সরাসরি রাহুল গান্ধীর নাম না নিলেও তিনি লোকসভার বিরোধী দলনেতার আচরণের প্রসঙ্গেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
বিরোধীদের প্রতিবাদের সময় সংসদের অধিবেশন কক্ষের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধীকে চা পান করতে দেখা গিয়েছে। সনিয়াকে লেখা চিঠিতে দেবগৌড়া রাহুলের নাম না করলেও ওই আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। আরও বলেছেন সরকারের বিরোধিতার নামে বিরোধীরা যা করছে তা আসলে এক ধরনের অসহযোগিতা, সংসদীয় আচরণের অবমাননা। এমন নজির ভারতের সংসদে নেই।
বুধবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যসভার অধিবেশনে যোগ দেন। তখন সনিয়াকে লেখা তাঁর চিঠির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে রসিকতার সুরে বলেন, আপনার যত প্রেম আমাদের সঙ্গে। আর বিয়ে করেছেন নরেন্দ্র মোদীকে।
প্রসঙ্গত দেবগৌড়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেসের সমর্থনে। তাছাড়া কর্নাটকে দীর্ঘদিন জনতা দল সেকুলার কংগ্রেসের নির্বাচনী সঙ্গী ছিল। অবশ্য দুই দলের সেই বোঝাপড়া অনেক আগেই ভেঙে যায়। বিগত এক দশক জনতা দল সেকুলার কর্নাটকে বিজেপির নির্বাচনী সঙ্গী।
অনেকেই মনে করছেন সংসদ নিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর চিঠি লেখার পিছনে বিজেপির মদত রয়েছে। দেশের একমাত্র জীবিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার সঙ্গে মোদীর ব্যক্তিগত সখ্যের বিষয়টিও এই সুবাদে আলোচনায় এসেছে।
তাছাড়া মল্লিকার্জুন খাড়্গে কংগ্রেসের সভাপতি এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা হলেও কেন তিনি সংসদে কংগ্রেস সহ বিরোধীদের আচরণ নিয়ে সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছেন তা আমিও চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনাচক্রের খাড়্গে এবং দেবগৌড়া দুজনেই কর্নাটকের মানুষ।
মনে করা হচ্ছে, ঘরোয়া রাজনীতিতে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে খাড়্গেকে খাটো করতেই দেবগৌড়া সনিয়াকে চিঠি লেখেন। বুধবার রাজ্যসভায় খাড়্গে বলেন, আমি দেবগৌড়াজিকে ৫৪ বছর ধরে চিনি। তিনি বরাবর আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এখন কী হয়েছে কে জানে, তিনি নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ, তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।