এবার মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারির কথায় রাজনৈতিক ময়দানে ঝড় তুলেছে বিজেপি। এক অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে জিতু বলেন, রাজ্যের ‘লাডলি বহেনা’রা দেশের যে কোনও জায়গার থেকে বেশি মদ ও মাদক নেয়।

ভূপেশ বাঘেল (বাঁদিকে) ও জিতু পাটোয়ারি। সাংবাদিক সম্মেলনে।
শেষ আপডেট: 27 August 2025 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েরা বেশি মদ খায়। কংগ্রেস নেতার মন্তব্যে তোলপাড় করে ফেলছে বিজেপি। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি নেতাদের আনসান বক্তব্য নিয়ে কংগ্রেস শিবির থেকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, মশকরা হয়ে এসেছে। কিন্তু, এবার মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারির কথায় রাজনৈতিক ময়দানে ঝড় তুলেছে বিজেপি। এক অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে জিতু বলেন, রাজ্যের ‘লাডলি বহেনা’রা দেশের যে কোনও জায়গার থেকে বেশি মদ ও মাদক নেয়।
তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই বিজেপির মহিলা সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন মহল থেকে কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি উঠেছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব দাবি করেছেন, দলীয় নেতার এই মন্তব্যের জন্য কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে ক্ষমা চাইতে হবে। এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কথার জন্য জিতু পাটোয়ারিকে বহিষ্কার করতে হবে।
পাটোয়ারি গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় বলেন, মধ্যপ্রদেশ একটি মেডেল পেয়েছে। সেটা হলে এই রাজ্যের মহিলারা দেশের অন্য যে কোনও জায়গার থেকে বেশি মদ খান। এই বিজেপি, যারা মধ্যপ্রদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী রাজ্য বানাতে চায়, ওরাই এর জন্য দায়ী।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রদেশ হল ভারতের মধ্যে সবথেকে বেশি মদ বিক্রি হওয়া রাজ্য। এমনকী পাঞ্জাব ও অন্যান্য রাজ্যের থেকেও বেশি মাদকের ব্যবসা রমরমা এখানে। পাটোয়ারির কথায়, এখন আমাদের বোন ও মেয়েরাও মাদক নিতে শুরু করেছে। আর বিজেপি লাডলি বহেনা নাম দিয়ে তাদের ভোট জোগাড় করে বেড়াচ্ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এ রাজ্যে মেয়েরাই দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি মদ খায়।
এ বিষয়ে রাজ্যে কংগ্রেস সভাপতি মুখ্যমন্ত্রী যাদবকে নেশা বিরোধী পদক্ষেপে ব্যর্থ বলে দাবি করেন। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মহিলাদের প্রতি কংগ্রেসের সংকীর্ণ মনোভাব নেতাদের এই কথাতেই বোঝা যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের অর্ধেক মানুষকে (নারী জনসংখ্যা অনুযায়ী) অপমান করেছেন পাটোয়ারি। তাঁদের মদ্যপায়ী বলে অপমান করাকে দুর্ভাগ্যজনক মনে করেন যাদব। এই অপমানের জবাব মহিলারাই দেবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, তিজ উৎসবের মুখে কংগ্রেস নেতাদের এ ধরনের মন্তব্য সরকার বরদাস্ত করবে না। কংগ্রেস সভাপতির উচিত অবিলম্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করা এবং দলের হয়ে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। বিজেপি এমপি তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত, মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি হেমন্ত খান্ডেলওয়াল এবং শিশু ও নারী কল্যাণমন্ত্রী নির্মলা ভুরিয়াও কংগ্রেস নেতার কড়া সমালোচনা করেন।