CDSCO–র পরিদর্শনে সংস্থার ফ্যাক্টরি থেকে বিনা বিলের ডাইইথিলিন গ্লাইকোল ভর্তি ড্রাম উদ্ধার হয়। আরও চাঞ্চল্যের বিষয়, সংস্থাটি সিরাপ তৈরিতে অনুমোদিত সীমার (০.১%) পরিবর্তে ৪৬–৪৮% পর্যন্ত ডাইইথিলিন গ্লাইকোল মিশিয়েছিল বলে অভিযোগ।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 October 2025 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশে ১৯ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় (Madhya Pradesh child deaths) বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কফ সিরাপ ‘কোল্ডরিফ’-এ (Coldrif cough syrup) এমন উপাদান রয়েছে যা ৪ বছরের কম বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে উঠে আসা ২০২৩ সালের এক সরকারি নির্দেশে এই তথ্য মিলেছে।
‘কোল্ডরিফ’ সাধারণত শিশুদের সর্দি-কাশির লক্ষণ যেমন নাক দিয়ে জল পড়া, হাঁচি, গলা ব্যথা এবং চোখ জ্বালা কমানোর ওষুধ হিসেবে দেওয়া হয়। এই সিরাপে থাকে তিনটি প্রধান উপাদান, ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট, প্যারাসিটামল এবং ফেনাইলেফ্রিন।
কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বরের এক নির্দেশে বলা হয়েছিল, ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট (IP 2mg) ও ফেনাইলেফ্রিন HCL (IP 5mg)–এর ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন (FDC) ৪ বছরের নীচের শিশুদের ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না।
এই নির্দেশটি জারি করে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)। এতে স্বাক্ষর করেন ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল ডা. রাজীব সিং রঘুবংশী। নির্দেশে বলা হয়েছিল, সমস্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাকে সিরাপের বোতল, লেবেল এবং প্যাকেজ ইনসার্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, 'এই ওষুধ ৪ বছরের নীচের শিশুদের জন্য প্রেস্ক্রাইব করা যাবে না।'
তবে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এই নির্দেশ মানেনি। ওষুধের লেবেলে কোনও সতর্কতা লেখা হয়নি। রাজ্য সরকারগুলিও সিরাপ নিষিদ্ধ করেনি বা জনগণের মধ্যে কোনও সচেতনতা অভিযান চালায়নি। তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমে অবস্থিত শ্রীসান ফার্মাসিউটিক্যালস (Srisan Pharmaceuticals) সংস্থা তৈরি করে ‘কোল্ডরিফ’ সিরাপ। এই ওষুধের সঙ্গে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বহু শিশুর মৃত্যুর যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
চলতি মাসের ২ অক্টোবর, তামিলনাড়ু ড্রাগ কন্ট্রোল অথরিটি জানায়, 'তারা পরীক্ষায় দেখেছে কোল্ডরিফ’-এর নমুনা দূষিত (adulterated)। রিপোর্টে বলা হয়, সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকোল (Diethylene Glycol) পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ ৪৮.৬ শতাংশ (w/v)। এই রাসায়নিক অত্যন্ত বিষাক্ত এবং মানবদেহে প্রবেশ করলে তা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
ডাইইথিলিন গ্লাইকোল সাধারণত প্রিন্টিং ইঙ্ক, আঠা, ব্রেক ফ্লুইড ও লুব্রিক্যান্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি শরীরে গেলে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। শুরুতে বমি ভাব, পেট ব্যথা ও প্রস্রাব কমে যাওয়া- এই উপসর্গ দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি অকেজো হয়ে যায়, খিঁচুনি ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) শিশুদের 'বিষাক্ত' ওষুধ থেকে রক্ষার আহ্বান জানায়। সে সময় অন্তত ৭টি দেশে ৩০০-রও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল কয়েকটি নির্দিষ্ট কফ সিরাপ খাওয়ার পরে। ওই সিরাপগুলিতে ডাইইথিলিন গ্লাইকোল (DEG) ও ইথিলিন গ্লাইকোল (EG)-এর মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি।
কিন্তু দেখা যায়, দেশের প্রায় ৭২ শতাংশ ছোট ও মাঝারি (MSME) ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এখনও সেই সার্টিফিকেট পেয়েছে, বাকি ১ হাজার ৪৭০টি কোম্পানি আবেদনই করেনি। মোট ৫হাজার ৩০৮টি সংস্থার মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৮৩৮টি কোম্পানির GMP সার্টিফিকেশন রয়েছে।
শ্রীসান ফার্মা, যারা ‘কোল্ডরিফ’ সিরাপ তৈরি করে, তাদেরও কোনও GMP সার্টিফিকেট নেই। তবুও তারা জেনেরিক ওষুধ তৈরি ও বিক্রি চালিয়ে গিয়েছে।
CDSCO–র পরিদর্শনে সংস্থার ফ্যাক্টরি থেকে বিনা বিলের ডাইইথিলিন গ্লাইকোল ভর্তি ড্রাম উদ্ধার হয়। আরও চাঞ্চল্যের বিষয়, সংস্থাটি সিরাপ তৈরিতে অনুমোদিত সীমার (০.১%) পরিবর্তে ৪৬–৪৮% পর্যন্ত ডাইইথিলিন গ্লাইকোল মিশিয়েছিল বলে অভিযোগ।