কাশির সিরাপ খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তামিলনাড়ুর কারখানায় মিলল ভয়ঙ্কর অনিয়মের ছবি। নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছিল সিরাপ, ধরা পড়েছে ৩৫০টি নিয়মভঙ্গ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 October 2025 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ‘কোলড্রিফ’ সিরাপ উৎপাদনকারী সংস্থার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল তামিলনাড়ুর ড্রাগ কন্ট্রোল দফতর। তদন্তে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর অনিয়ম ও মারাত্মক স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের ছবি।
তামিলনাড়ুর ওই ড্রাগ কন্ট্রোল টিম সিরাপ তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখে, ন্যূনতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানা হয়নি। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছিল কাশির ওষুধ। ৩৫০টিরও বেশি নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ মিলেছে। দক্ষ কর্মীর অভাব, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থার ঘাটতিও ধরা পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, সিরাপে পাওয়া গেছে বিষাক্ত উপাদান 'প্রোপিলিন গ্লাইকোল' ও 'ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল'। প্রোপিলিন গ্লাইকোল সাধারণত সীমিত পরিমাণে ওষুধ, খাদ্য ও প্রসাধনী দ্রব্যে ব্যবহার করা যায়, বেশি পরিমাণে থাকলে তা বিষাক্ত হতে পারে। অথচ তদন্তে দেখা গেছে, ওই সংস্থা ৫০ কেজি প্রোপিলিন গ্লাইকোল কিনেছে কোনও বৈধ ইনভয়েস ছাড়াই, যা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের মতে, অনেক সময় কম দামের ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল ব্যবহার করা হয় প্রোপিলিন গ্লাইকোলের পরিবর্তে। এই রাসায়নিক মূলত ব্রেক ফ্লুইড, রঙ, প্লাস্টিক ও শিল্প দ্রব্যে ব্যবহৃত হয়, ওষুধে এর উপস্থিতি মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইতিমধ্যেই এই কোলড্রিফ সিরাপ খেয়ে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে পাঁচ বছরের কম বয়সি অন্তত ১৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর একাধিক রাজ্য এখন সতর্ক। মধ্যপ্রদেশে ১৪ শিশুর মৃত্যুর পর কোলড্রিফ সিরাপ বিক্রি ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কেরলে স্বাস্থ্যদফতর নির্দেশ দিয়েছে, ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনও ওষুধ দেওয়া যাবে না। কর্নাটক সরকারও হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে, দুই বছরের নিচের শিশুদের কাশি বা ঠান্ডার সিরাপ না দিতে।
সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। রাজ্যে ‘কোলড্রিফ’, ‘রেসপিফ্রেশ’ ও ‘রিলাইফ’— এই তিনটি কাশির সিরাপের বিক্রি, কেনাবেচা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তারা।
তামিলনাড়ুর তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসার পর সারা দেশেই প্রশ্ন উঠছে, শিশুদের জন্য তৈরি ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে এমন ভয়াবহ গাফিলতি কীভাবে সম্ভব! শিশুদের জীবন নিয়ে এমন বিপজ্জনক খেলা চালানো সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের তরফে।