ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। তারা প্রশ্ন তুলেছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা যখন সরকারের কাছ থেকে 'ক্লিন চিট' পেল কীভাবে?

শেষ আপডেট: 6 October 2025 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশির সিরাপে ১৬ জন শিশুর মৃত্যুর (Cough syrup child death) ঘটনায় বিতর্কের মাঝে গ্রেফতার হয়েছেন মধ্যপ্রদেশের চিকিৎসক (Madhya Pradesh doctor) ডাঃ প্রবীণ সোনি। এ বার এই গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সরব হল ভারতের শীর্ষ চিকিৎসক সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)। সংগঠনের দাবি, যথাযথ প্রোটোকল মেনে চিকিৎসা করা হয়েছে, তাই একমাত্র চিকিৎসককে দায়ী করা অন্যায়। এই কাশির সিরাপেই আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে রাজস্থানে।
সূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। তারা প্রশ্ন তুলেছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা যখন সরকারের কাছ থেকে 'ক্লিন চিট' পেল কীভাবে? আর তাই যদি হবে, তখন চিকিৎসককে একা দায়ী করা হচ্ছে কেন? সংগঠনটি ডাঃ সোনির মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে।
সূত্র জানায়, একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম ইতিমধ্যেই ছিন্দওয়ারায় পৌঁছেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা ও বেতুল জেলায়, যেখানে মোট ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ১৪ জন ছিন্দওয়ারা এবং ২ জন বেতুলের। এই মৃত্যুর পর রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং অভিযুক্ত ‘কলড্রিফ’ (Coldrif) নামের কাশির ওষুধ তৈরির সংস্থা ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শনিবার পুলিশ ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে ডা. সোনি ও Sresun Pharmaceuticals-এর মালিকদের গ্রেফতার করে। অভিযোগ দায়ের করেন পারাসিয়া কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার অঙ্কিত সাহলাম।
এর পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নির্দেশ দেন, ছিন্দওয়ারার পারাসিয়ায় কর্মরত শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সোনিকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই ওই চিকিৎসক ‘Coldrif’ সিরাপ প্রেসক্রাইব করেছিলেন। শুক্রবার প্রকাশিত ল্যাব রিপোর্টে জানা যায়, ওই সিরাপে রয়েছে ৪৮.৬% ডাইইথিলিন গ্লাইকোল (DEG) — এক ধরনের মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক, যা শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি ফেলিওর ও মৃত্যু ঘটাতে পারে।