ভুয়ো কাশির সিরাপ খেয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ১১। নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর। জব্বলপুর থেকে বাজেয়াপ্ত সিরাপের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ভোপালে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 October 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশির ওষুধ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে। এখনও পর্যন্ত দুই রাজ্য মিলিয়ে মোট ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারায় মারা গিয়েছে ৯ জন। রাজস্থানের ভরতপুরে এক দুই বছরের শিশু এবং সিকরে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ভরতপুরের মৃত শিশুর পরিবার অভিযোগ তুলেছে, ভুয়ো কাশির সিরাপ খাওয়ানোর পরেই প্রাণ যায় তাঁদের সন্তানের। ঠান্ডা লাগায় শিশুটিকে প্রথমে কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা করে ওষুধের সঙ্গে এক বোতল সিরাপও দেন। সেই সিরাপ খাওয়ানোর পর ঘুমিয়ে যায় সে। টানা চার ঘণ্টা পরেও জ্ঞান ফেরেনি। পরে তাকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ভরতপুর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শিশুটিকে জয়পুরে স্থানান্তরিত করা হয়। চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় বাচ্চাটির। পরিবারের অভিযোগ, সিরাপের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবে প্রাণ গেছে তাাঁদের সন্তানের। তাঁরা এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন।
সিকরে এক পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু হয় ভুয়ো কাশির সিরাপ খাওয়ানোর পর। জানা গিয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে ওই সিরাপ দেওয়া হয়েছিল।
মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯ শিশুর। অভিযোগ, ভুয়ো সিরাপ খাওয়ানোর পরই একে একে সব শিশুর কিডনি অকেজো হয়ে যায়। জেলার পারাসিয়া এলাকায় সম্প্রতি এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ভুয়ো সিরাপ-কাণ্ডে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের পাঁচ সদস্যের এক তদন্তকারী দল জানিয়েছে, জব্বলপুরের কাটারিয়া ফার্মা থেকে এই সিরাপ বিতরণ করা হয়েছিল। কোম্পানি মোট ৬৬০ ভায়াল ‘কোলড্রিফ’ সিরাপ চেন্নাইয়ের এক সংস্থার থেকে কিনেছিল। এর মধ্যে ৫৯৪ ভায়াল জব্বলপুর থেকে পাঠানো হয় ছিন্দওয়ারায়।
১৬টি ভায়ালের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ভোপালে। এদিকে কাটারিয়া ফার্মার ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে জব্বলপুরের ওমতি থানায়।
মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে দুই রাজ্যে। ভুয়ো ওষুধের জাল কোথায় কোথায় পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।