মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় কাশির সিরাপ খাওয়ার পর কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু হল ৬ শিশুর। পরপর এই মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত অভিভাবকেরা। প্রশাসন ইতিমধ্যেই দু'টি সিরাপের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 October 2025 19:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় কাশির সিরাপ খাওয়ার পরই কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু হল ছয় শিশুর। গত এক মাস ধরে পরপর শিশুমৃত্যুতে এলাকায় তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক।
প্যারাসিয়া এলাকায় রহস্যজনক এক অসুখ ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। ছিন্দওয়াড়া মেডিক্যাল কলেজের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ দীপক প্যাটেলের কথায়, ‘শিশুরা প্রথমে জ্বর নিয়ে আসছে। পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে তাদের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। টেস্টে দেখা যাচ্ছে কিডনি কাজ করছে না। এদের নাগপুরে নিয়ে গিয়ে ডায়ালিসিস করাতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, সাত-আট জনের ডায়ালিসিস চলছে। এখনও নিশ্চিত কারণ মেলেনি, বিষয়টি গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।’
সূত্রের খবর, ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্যারাসিয়া, উমরেঠ, জাতাছাপর, বারকুহি-সহ বিভিন্ন গ্রামে শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা-কাশি-জ্বরের প্রবণতা বেড়েছে। অভিভাবকেরা স্থানীয় ডাক্তার বা ওষুধের দোকান থেকে কাশির সিরাপ কিনে খাওয়াতে শুরু করেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুগুলির অবস্থা খারাপ হতে থাকে। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, শরীর দুর্বল হতে থাকে। প্রথমে প্যারাসিয়া ও ছিন্দওয়াড়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাগপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবুও ছ’শিশুকে বাঁচানো যায়নি।
ছিন্দওয়াড়ার কালেক্টর শৈলেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, প্রথম মৃত্যু হয়েছিল ৪ সেপ্টেম্বর প্যারাসিয়ায়। এরপর ৬ তারিখ পর্যন্ত আরও কয়েকজন মারা যায়। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ছয়টি মৃত্যু হয়েছে। রক্ত পরীক্ষা, সিএসএফ টেস্টে জাপানি এনসেফেলাইটিস, চান্দিপুরা বা অন্য কোনও ভাইরাস ধরা পড়েনি। একমাত্র মিল পাওয়া গেছে অ্যানিউরিয়া অর্থাৎ প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে।
এখনও পর্যন্ত ৫৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩০০ জনের কিডনি ও লিভার ফাংশন টেস্ট করা হলেও কোনও নির্দিষ্ট রোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এসসিডিএস ও সিডিসির বিশেষজ্ঞ টিম ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করেছে। সরকার শিশুদের যত্রতত্র ওষুধ না দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে কালেক্টরের দফতর থেকে—
দুই কাশির সিরাপে নিষেধাজ্ঞা
অভিযোগের পর কালেক্টর ‘কোলড্রিফ’ ও ‘নেক্সট্রো-ডিএস’ নামের দুটি সিরাপের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র মান্যতাপ্রাপ্ত ওষুধই এখন থেকে বিক্রি করা যাবে।