ঘটনায় রাজ্য সরকার তৎক্ষণাৎ ওই ব্যাচের সিরাপ ব্যান করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সমস্ত সরকারি হাসপাতালে সিরাপটির বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 October 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানে ফের কাশির সিরাপ নিয়ে চাঞ্চল্য। সরকার যে সিরাপ সরবরাহ করে (Dextromethorphan Hydrobromide), তা খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে দুই শিশু। সিকরের খোরি ব্রাহ্মণান গ্রামে পাঁচ বছরের নিত্যাংশ এবং ভরতপুরের কালসাডা গ্রামের তিন বছরের গগন। নিত্যাংশের মৃত্যু হয় (Rajasthan cough syrup death), আর গগন সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি (Dextromethorphan children risk)।
অভিযোগ ওঠে, একই সিরাপ খেয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক কমিউনিটি হেলথ অফিসারও অসুস্থ হন। ঘটনায় রাজ্য সরকার তৎক্ষণাৎ ওই ব্যাচের সিরাপ ব্যান করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে (cough syrup ban)। সমস্ত সরকারি হাসপাতালে সিরাপটির বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে। আইসিএমআর ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে।
ডেক্সট্রোমেথরফান কী?
সাধারণত বাজারে পাওয়া কাশির সিরাপে ব্যবহৃত একটি প্রচলিত উপাদান। শুষ্ক কাশি কমাতে মস্তিষ্কের ‘কাফ সেন্টার’-এ কাজ করে। তবে শিশুদের জন্য এর সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
২০০৭ সালে US FDA শিশুদের (২ বছরের কম বয়সী) ক্ষেত্রে এই সিরাপ নিষিদ্ধ করে। পরে সীমা বাড়ানো হয় ৪ বছর পর্যন্ত। CDC এবং আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স জানায়, ৬ বছরের কম শিশুদের জন্য কাশির সিরাপ কার্যকর নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ।
ভারতে এখনও ওভার-দ্য-কাউন্টার সিরাপ সহজলভ্য। ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়াই শিশুদের দেওয়া হচ্ছে। বহু ব্র্যান্ড যেমন Benadryl, Corex, Ascoril বা Kofol-এ রয়েছে এই উপাদান।
কাশির সিরাপ কেন বিপজ্জনক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ শিশুর কাশি ভাইরাসজনিত, ওষুধ ছাড়াই সেরে যায়। সিরাপ শুধু সাময়িক স্বস্তি দেয়, রোগ সারায় না। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, হ্যালুসিনেশন, বমি, চামড়ায় র্যাশ দেখা দিতে পারে।
অতীতের ভয়াবহতা
২০২২ সালে গাম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ক্যামেরুনে ভারতীয় তৈরি কাশির সিরাপ খেয়ে একাধিক শিশু মারা যায়। সিরাপে বিষাক্ত রাসায়নিক (diethylene glycol, ethylene glycol) পাওয়া গিয়েছিল।
ভারতের পদক্ষেপ
• কয়েকটি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন সিরাপ ব্যান করা হয়েছে।
• এক্সপোর্টের আগে বাধ্যতামূলক ল্যাব টেস্ট ও সার্টিফিকেট চালু হয়েছে।
• ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কিছু সিরাপ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ শিশুদের কাশির জন্য আদৌ সিরাপের দরকার নেই। সঠিক চিকিৎসার বদলে বরং অতিরিক্ত বা ভেজাল সিরাপ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।