রাজস্থানে কাশির সিরাপ খেয়ে মৃত্যু হল দুই শিশুর। একই ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন আরও অনেকে। সিরাপের নিরাপত্তা প্রমাণ করতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন চিকিৎসকও।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 1 October 2025 19:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানে কাফ সিরাপ খেয়ে মৃত্যু হল দুই শিশুর, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এমনকি সিরাপটি ঠিক আছে, এই কথা প্রমাণ করতে গিয়ে তা খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান এক চিকিৎসকও।
অভিযোগ উঠছে কেসন ফার্মা নামের এক ওষুধ কোম্পানির তৈরি এই সিরাপ। যাতে ছিল ডেক্সট্রোমেথরফান হাইড্রোব্রোমাইড নামের যৌগ।
সিকর জেলার চিরানা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পাঁচ বছরের নীতীশকে। চিকিৎসক ওই কাশির সিরাপ প্রেসক্রাইব করেন। রবিবার রাতে ১১টা নাগাদ তাঁর মা ওষুধ খাওয়ান। রাত তিনটেয় বাচ্চাটি হেঁচকি তুলতে শুরু করলে জল খাইয়ে আবার ঘুম পাড়ান মা। এরপর আর ঘুম থেকে ওঠেনি নীতীশ। সোমবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নীতীশের কাকা প্রিয়কান্ত শর্মা বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, 'রাতে ওষুধ দেওয়ার পর ও ঠিকঠাকই ছিল। সকালে না উঠতেই আমরা ছুটে যাই হাসপাতালে। তখনই বুঝি বিপদ হয়েছে।'
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর মারা যায় ভরতপুর জেলার মালহা গ্রামের দুই বছরের সম্রাট। তার মা জ্যোতি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওই সিরাপ নিয়ে এসেছিলেন। দুপুরে সিরাপ খাওয়ানো হয় সম্রাট, তার দিদি সাক্ষী ও ভাইপো বিরাটকে। ঘণ্টাখানেক বাদে তিনজনেই ঘুমিয়ে পড়ে। সাক্ষী ও বিরাটকে কষ্টে জাগানো গেলেও আর ওঠেনি সম্রাট। প্রথমে ভরতপুর, পরে জয়পুরের জেকে লন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
সম্রাটের ঠাকুমা নেহনি বলেন, 'তিন নাতিকে ওষুধ খাওয়াই। আমরা ভাবতেও পারিনি এভাবে ছেলেটাকে হারাতে হবে। তখন বুঝিনি সিরাপই মৃত্যুর কারণ।'
২৪ সেপ্টেম্বর সম্রাটের মা ওই কাশির সিরাপটি নিয়ে অভিযোগ জানান চিকিৎসক তরাচাঁদ যোগীকে। সিরাপের নিরাপত্তা প্রমাণ করতে তিনি নিজেই খেয়ে নেন, খাওয়ান এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককেও। এরপর গাড়ি নিয়ে বেরোনোর পথে মাথা ঘোরায় দুজনের, রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে আট ঘণ্টা অচেতন হয়ে পড়ে থাকেন চালক। পরে পরিবারের লোকেরা খুঁজে পেয়ে উদ্ধার করেন। অ্যাম্বুল্যান্স চালকও তিন ঘণ্টা পর একই উপসর্গে অসুস্থ হন।
দক্ষিণ রাজস্থানের বানসওয়ারায় একই সিরাপ খেয়ে অসুস্থ হয়েছে এক থেকে পাঁচ বছরের আট শিশু। চিকিৎসার পর বেশিরভাগই সেরে উঠলেও একজনের অবস্থা একসময় গুরুতর হয়েছিল।
ঘটনার পর রাজস্থান সরকার ২২ ব্যাচের সিরাপ বন্ধ করে দিয়েছে। জুলাই থেকে রাজ্যে ১.৩৩ লক্ষ বোতল সিরাপ বিতরণ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জয়পুরের এসএমএস হাসপাতালে মজুত ৮,২০০ বোতলও বিতরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
রাজস্থান মেডিক্যাল সার্ভিস কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জয় সিং জানান, সব ডাক্তারের কাছে নির্দেশ গেছে, ওই ওষুধ প্রেসক্রাইব বন্ধ করতে হবে। কেসন ফার্মার সরবরাহ আপাতত বন্ধ করা হয়েছে।
ড্রাগ কন্ট্রোলার অজয় পাঠক জানিয়েছেন, একই কোম্পানির এক ওষুধ ২০২৩ সালেই বিভিন্ন অভিযোগ পেয়ে বাতিল করা হয়েছিল। তারপরও কীভাবে এমন হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপাতত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তাই বন্ধ করা হয়েছে ওই ফার্মার ফ্যাক্টরি। কোম্পানির মালিক বীরেন্দ্র কুমার গুপ্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।