মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় কাশির সিরাপ কাণ্ডে গ্রেফতার চিকিৎসক প্রবীন সোনি। বিষাক্ত উপাদান মেশানো ওষুধ প্রেসক্রাইব করার অভিযোগে উঠল প্রশ্ন!
.jpeg.webp)
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 5 October 2025 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলায় ১১ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হলেন চিকিৎসক প্রবীন সোনি। শনিবার গভীর রাতে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযোগ, তিনি-ই শিশুদের প্রাণঘাতী ‘কোলড্রিফ’ নামের কাশির ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এর আগে শনিবার সকালে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে চিকিৎসক সোনির নামে। পাশাপাশি মামলা রুজু হয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা স্রেসুন ফার্মাসিউটিক্যালস-এর বিরুদ্ধেও। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১০৫ ও ২৭৬ এবং ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট-এর ২৭(এ) ধারায় মামলা হয়েছে।
শিশুদের মৃত্যুর পর ল্যাবরেটরি রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, কোলড্রিফ কাশির ওষুধে রয়েছে ৪৮.৬ শতাংশ ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল (DEG)। এই বিষাক্ত রাসায়নিক কিডনি অকেজো করে দেয়, যার ফলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অনেকেই বলছেন, এবিষয়ে নিশ্চয়ই ডাক্তারের কাছে তথ্য ছিল কিন্তু তাও একাজ কীভাবে করলেন তিনি!
এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ করেছে। শনিবার মধ্যপ্রদেশ সরকার ঘোষণা করে, কোলড্রিফ সিরাপ বিক্রি ও বিতরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বাজারে থাকা সব স্টক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্রেসুন ফার্মার তৈরি অন্য সব ওষুধও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংস্থাটি তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমে অবস্থিত। গত ১ অক্টোবরই তামিলনাড়ু সরকার প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতি ধরা পড়ায় কোলড্রিফ সিরাপ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২ অক্টোবর প্রকাশিত তামিলনাড়ু ড্রাগ কন্ট্রোল ডিরেক্টরেটের রিপোর্টে ওই সিরাপকে ‘নন-স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড ডিফেক্টিভ (NSQ)’ বলে ঘোষণা করা হয়।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং ড্রাগ কন্ট্রোলারদের সঙ্গে বৈঠক ডাকছেন। উদ্দেশ্য একটাই—কাশির ওষুধ সঠিকভাবে ব্যবহারের নিয়ম জোরদার করা এবং বাজারে মানহীন ওষুধ যাতে না পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করা।