গোয়ার আরপোরায় অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যু। কো-ওনার অজয় গুপ্তকে আটক করল পুলিশ। ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এ একাধিক বেআইনি নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে বলে জানাল প্রশাসন।

অজয় গুপ্ত
শেষ আপডেট: 10 December 2025 07:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার আরপোরায় ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ (Birch by Romeo Lane) নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুনে ২৫ জনের মৃত্যুর পরই মালিক–পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে পুলিশ। প্রথমে ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়, এবার দিল্লি থেকে আটক করা হল নাইটক্লাবেরই অন্য এক মালিক অজয় গুপ্তকে (Ajay Gupta)। তাঁকে শিগগিরই গোয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং গ্রেফতার করবে পুলিশ।
গোয়া পুলিশ আগেই অজয় গুপ্ত ও সুরিন্দর কুমার খোসলার (Surinder Kumar Khosla) বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি করেছিল। দুই মালিক সৌরভ লুথরা ও গৌরব লুথরা (Saurabh Luthra, Gaurav Luthra) পলাতক। রয়েছেন থাইল্যান্ডে, তাঁদের বিরুদ্ধে জারি রয়েছে ব্লু কর্নার নোটিস।
এপর্যন্ত নাইটক্লাবের চিফ জেনারেল ম্যানেজার রাজীব মোদক, জেনারেল ম্যানেজার বিবেক সিংহ, বার ম্যানেজার রাজীব সিংহানিয়া, গেট ম্যানেজার রিয়াংশু ঠাকুর এবং কর্মী ভারত কোহলিকে গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বেআইনি নির্মাণে ভরপুর ছিল ক্লাব, মিলছে একের পর এক নথি
এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ শুরু থেকেই অবৈধভাবে কার্যকলাপে ভরা ছিল। লবণক্ষেতের ওপর নির্মাণ, নদীতে সরাসরি নিকাশি, ঝুঁকিপূর্ণ ডিস্কোথেক-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেই প্রথম অভিযোগ জমা পড়ে আরপোরা পঞ্চায়েতে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সাইট পরিদর্শন করে পঞ্চায়েত জরিমানাযোগ্য অনিয়ম ধরে। ফেব্রুয়ারিতে শো-কজ নোটিস এবং ১৩ মার্চ গৃহীত রেজলিউশনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ক্লাবের কিছু কাঠামো ভেঙে না ফেললে এটা চালানো যাবে না।
এরপর মালিকরা কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। উলটে আপিল করে ভাঙাভাঙির নির্দেশ স্থগিত রাখার চেষ্টা করেন। ফলে ক্লাব চালু থাকে, ইভেন্ট চলতেই থাকে, ভিড় জমে এবং ঘটে গেল এত বড় মাপের দুর্ঘটনা।
রাজস্ব দফতর ও অন্যান্য সংস্থার রিপোর্টও একই ছবি তুলে ধরছে
২০২৪ সালের জুনের কিছু রিপোর্টে ধরা পড়ে আরও বিস্তৃত অনিয়ম। কৃষিজমিকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা, সেটা বেআইনিভাবেই ভরাট করা, ওয়াটারস্পোর্টস জোন, শপিং এলাকা, নাইটক্লাব-সবই ছিল অনুমতিহীন। রিপোর্ট থেকে আরও জানা যায়, ডেপুটি কালেক্টরও বেআইনি জমি-বদলের অভিযোগে নোটিস জারি করেছিলেন।
এ বছরের শুরুতে গোয়া কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটির রিপোর্টে বলা হয়, জলাধারে কংক্রিট নির্মাণ, চারটি ডেক, ১৩টি দোকান-সবই ছিল কোস্টাল রেগুলেশন জোন (CRZ)–এর সরাসরি লঙ্ঘন। এতকিছুর পর ক্লাব ভাঙার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
লুথরাদের অন্য সম্পত্তিও ভাঙল প্রশাসন
ভাগাটরে লুথরাদের ‘রোমিও লেন’ নামে আরেকটি ক্লাব আছে। সেটির কিছু অংশও বেআইনিভাবে নির্মাণ করা। সেই অংশ মঙ্গলবার ভেঙে দেয় সরকার। রাজ্য পর্যটনমন্ত্রী রোহন খাউন্টে বলেন, ‘বেআইনি নির্মাণে বহু স্তরের মানুষ জড়িত থাকে। শুধু রাজনীতিকরা নন, কর্মকর্তারাও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আসবেন। তদন্তে যাদের দোষ প্রমাণিত হবে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’