শীর্ষ আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, রাজ্য বোর্ডের দেওয়া মাধ্যমিক (Class 10) অ্যাডমিট কার্ডকে (Admit Card) ভোটার তালিকার এনুমারেশনের জন্য বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 19 January 2026 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (West B engal SIR) প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে শীর্ষ আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, রাজ্য বোর্ডের দেওয়া মাধ্যমিক (Class 10) অ্যাডমিট কার্ডকে (Admit Card) ভোটার তালিকার এনুমারেশনের জন্য বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant), বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্বাচন কমিশন (Election Commission) মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করছে না।
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, এসআইআর সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেই যখন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় রাখা হয়েছে, তখন নির্বাচন কমিশন কীভাবে তা অস্বীকার করতে পারে?
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত-ও একই সুরে মন্তব্য করে বলেন, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা ছাড়া উপায় নেই, কারণ রেজাল্ট কার্ডে জন্মতারিখ উল্লেখ থাকে না। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অ্যাডমিট কার্ডেই জন্মতারিখ নথিভুক্ত করে, পাশ সার্টিফিকেটে নয়। ফলে যদি শুধু সার্টিফিকেট চাওয়া হয়, সেখানে জন্মতারিখ পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে অ্যাডমিট কার্ডকেই অনুমোদন দিতে হবে।
বস্তুত, এসআইআর-এর বৈধ নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হবে না। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
এসআইআর-এর জন্য আগেই ১৩টি নথির কথা উল্লেখ করেছিল কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বৈঠকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তার পরে সিইও দফতর থেকে এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রাহ্য করার প্রস্তাব খারিজ করে দেয় কমিশন।
যদিও সোমবার, বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দেন, অ্যাডমিট কার্ড ও সার্টিফিকেট— দু’টিই এসআইআর হিয়ারিংয়ে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR West Bengal) সময় যাঁদের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
নোটিসের সংখ্যা বিপুল হওয়ায় আদালতের নির্দেশ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical discrepancies) তালিকাভুক্ত ভোটারদের নাম গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে টাঙাতে হবে। ওই তালিকার বিরুদ্ধে ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানো যাবে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য বাড়তি সময়ও দিতে হবে।