জেনারেলের বক্তব্য, ১৯৫৪ সালে ভারত তিব্বতকে চিনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দুই দেশ পঞ্চশীল চুক্তি সই করে। ভারতের ধারণা ছিল, এর ফলে উত্তর সীমান্ত কার্যত নিষ্পত্তি হয়েছে।

জওহরলাল নেহরু ও সিডিএস অনিল চৌহান
শেষ আপডেট: 13 February 2026 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের (China) সঙ্গে ১৯৫৪ সালের পঞ্চশীল চুক্তি নিয়ে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান (Anil Chouhan)। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ভারতের উত্তর সীমান্ত নির্ধারণের প্রশ্নে জওহরলাল নেহরু (Jawaharlal Nehru ) সম্ভবত একটি স্থিতিশীল কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন বলেই পঞ্চশীল চুক্তির পথে হাঁটেন (Panchsheel Agreement With China)।
জেনারেলের বক্তব্য, ১৯৫৪ সালে ভারত তিব্বতকে চিনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দুই দেশ পঞ্চশীল চুক্তি সই করে। ভারতের ধারণা ছিল, এর ফলে উত্তর সীমান্ত কার্যত নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু চিনের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, “চিনের মতে, চুক্তিটি বাণিজ্য সংক্রান্ত ছিল। সীমান্ত প্রশ্নে তাদের অবস্থানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক ছিল না।”
স্বাধীনতার পর ব্রিটিশরা ভারতে রেখে গিয়েছিল একাধিক অমীমাংসিত সীমান্তরেখা। পূর্বে ৮৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ম্যাকমোহন লাইন ছিল ব্রিটিশ ভারত ও তিব্বতের মধ্যে সীমারেখা। চৌহান বলেন, নেহরু হয়তো জানতেন যে পূর্বে ম্যাকমোহন লাইন রয়েছে, লাদাখ অঞ্চলেও ভারতের কিছু দাবি ছিল, তবে পূর্বাঞ্চলে সীমা নির্দিষ্ট করার প্রশ্নে অনিশ্চয়তা ছিল। সেই কারণেই পঞ্চশীল চুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি মেটাতে চেয়েছিলেন তিনি।
চৌহানের মতে, তিব্বতে ‘অভিযান’ চালিয়ে লাসা ও শিনজিয়াংয়ে প্রবেশের পর চিনও ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা চাইছিল। তিনি বলেন, “উভয় দেশের কাছেই অঞ্চলটি ছিল দূরবর্তী ও কঠিন ভৌগোলিক এলাকা। তাই স্থিতাবস্থা বজায় রাখা জরুরি হয়ে উঠেছিল।”
১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন প্রতিষ্ঠার পর ভারত সদর্থক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী ছিল বলেও উল্লেখ করেন সিডিএস। তিনি জানান, চিন তিব্বত দখলের পর এবং ভারত তাকে রাষ্ট্রপুঞ্জে স্থায়ী সদস্যপদের স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর, ভারত ও তিব্বতের মধ্যে যে ‘হিমালয় বাফার’ ছিল তা কার্যত বিলীন হয়ে যায়। তার জায়গায় সরাসরি ভারত-চিন সীমান্ত তৈরি হয়।
চৌহানের কথায়, পঞ্চশীল চুক্তির মাধ্যমে ভারত মনে করেছিল সীমান্ত নির্ধারণ হয়েছে। ছ’টি গিরিপথ— শিপকি লা, মানা, নীতি, কিংরি-বিংরি, লিপুলেখ ও ধর্মা দিয়ে বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রার পথ নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। ভারতের কাছে এটিই সীমান্তের বৈধতার ভিত্তি হয়ে ওঠে। তবে পরে চিন স্পষ্ট জানায়, সীমান্ত প্রশ্নে তাদের অবস্থান পঞ্চশীল চুক্তিতে প্রতিফলিত হয়নি।
উল্লেখ্য, হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) আজও স্পর্শকাতর। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিন সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তাতে ৩০-রও বেশি চিনা সেনারও মৃত্যু হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই পঞ্চশীল ও সীমান্ত ইতিহাস নিয়ে সিডিএস-এর মন্তব্য নতুন করে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।