Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

বিচ্ছেদের কারণ সঙ্গীর মানসিক অসুখ? খোদ ডাক্তারকে সাক্ষী দিতে হবে: ছত্তীসগড় হাইকোর্ট

বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনে স্বামী বা স্ত্রীর মানসিক অসুস্থতার (Mental Illness) অভিযোগ থাকলে, তার প্রমাণে চিকিৎসক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য ও রিপোর্ট প্রয়োজন। শুধু প্রেসক্রিপশন যথেষ্ট নয়। জানিয়ে দিল ছত্তীসগড় হাইকোর্ট (Chhattisgarh High Court)।

বিচ্ছেদের কারণ সঙ্গীর মানসিক অসুখ? খোদ ডাক্তারকে সাক্ষী দিতে হবে: ছত্তীসগড় হাইকোর্ট

ছত্তীসগড় হাইকোর্ট।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 21 August 2025 15:58

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী বা স্ত্রীর মানসিক অসুস্থতা বা মানসিক ব্যাধির কারণে বিয়ে ভাঙতে চাইলে কেবলমাত্র কিছু প্রেসক্রিপশন জমা দিলেই হবে না। আদালতে চিকিৎসক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য এবং ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট উপস্থিত করতে হবে। কারণ, এত গুরুতর অভিযোগ কেবল অনুমান বা প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে প্রমাণ করা যায় না। একটি মামলার রায়ে এমনই জানাল ছত্তীসগড় হাইকোর্ট। 

এই মামলার ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩ মার্চ। আবেদনকারী স্বামীর বিয়ে হয় সে বছর। এর পরে তাঁদের দুই কন্যাসন্তানও জন্ম নেয়। এর পরেই স্বামীর অভিযোগ, স্ত্রীর পরিবার তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক বলে জানিয়েছিল। অথচ বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর আচরণে তিনি নানা অস্বাভাবিকতা দেখতে পান। কখনও অকারণে চিৎকার, কখনও ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর, কখনও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ—এমনকি সন্তানদের বিনা কারণে মারধরও করতেন তিনি। 

এর পরে স্ত্রীর চিকিৎসা করালে জানা যায়, তিনি স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে স্ত্রী একদিন বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। এর পর ওই স্বামী বিবাহ বাতিলের মামলা করেন প্রতারণার অভিযোগে। পাশাপাশি, বিকল্পভাবে তিনি নির্যাতনের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদেরও আবেদন জানান।

ফ্যামিলি কোর্ট অবশ্য তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। কারণ, সেখানে তিনি প্রমাণ করতে পারেননি যে তাঁর স্ত্রী বিয়ের আগেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে স্বামী আপিল করেন হাইকোর্টে। কিন্তু এখানেও তাঁর আবেদন টিকল না। বিচারপতি রাজানি দুবে এবং বিচারপতি অমিতেন্দ্র কিশোর প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট বলেন, কেবল প্রেসক্রিপশন জমা দিলেই প্রমাণ হয় না যে স্ত্রী সত্যিই স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, দু’জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা করিয়েছিলেন স্ত্রী, কিন্তু কাউকেই আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হাজির করেননি। তাছাড়া কোনও ডায়াগনসিস সার্টিফিকেট বা ক্লিনিক্যাল রিপোর্টও জমা দেননি, যা নিশ্চিত করে যে বিবাহের সময় থেকেই স্ত্রী গুরুতর মানসিক ব্যাধিতে ভুগছিলেন।

এই প্রসঙ্গে আদালত ১৯৬৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি পুরনো মামলার রায় উদ্ধৃত করে জানায়, চিকিৎসক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য ছাড়া মানসিক অসুস্থতা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ১২ ধারায় বিবাহ বাতিল চাইলে প্রমাণের ভার সম্পূর্ণভাবে আবেদনকারীর ওপর বর্তায়। শুধুমাত্র কিছু প্রেসক্রিপশন জমা দেওয়া বা প্রতিপক্ষের থেকে কোনও প্রতিবাদ না আসা যথেষ্ট নয়। নির্ভরযোগ্য ও শক্ত প্রমাণ হাজির করতে হবে।

অতএব আদালত জানিয়ে দেয়, যেহেতু আবেদনকারী স্বামী চিকিৎসক বিশেষজ্ঞকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকেননি এবং তাঁর স্ত্রীর মানসিক অসুস্থতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাই কেবল প্রেসক্রিপশনকে প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না। শেষ পর্যন্ত ফ্যামিলি কোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে এবং স্বামীর আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়।


```