বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনে স্বামী বা স্ত্রীর মানসিক অসুস্থতার (Mental Illness) অভিযোগ থাকলে, তার প্রমাণে চিকিৎসক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য ও রিপোর্ট প্রয়োজন। শুধু প্রেসক্রিপশন যথেষ্ট নয়। জানিয়ে দিল ছত্তীসগড় হাইকোর্ট (Chhattisgarh High Court)।

ছত্তীসগড় হাইকোর্ট।
শেষ আপডেট: 21 August 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী বা স্ত্রীর মানসিক অসুস্থতা বা মানসিক ব্যাধির কারণে বিয়ে ভাঙতে চাইলে কেবলমাত্র কিছু প্রেসক্রিপশন জমা দিলেই হবে না। আদালতে চিকিৎসক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য এবং ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট উপস্থিত করতে হবে। কারণ, এত গুরুতর অভিযোগ কেবল অনুমান বা প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে প্রমাণ করা যায় না। একটি মামলার রায়ে এমনই জানাল ছত্তীসগড় হাইকোর্ট।
এই মামলার ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩ মার্চ। আবেদনকারী স্বামীর বিয়ে হয় সে বছর। এর পরে তাঁদের দুই কন্যাসন্তানও জন্ম নেয়। এর পরেই স্বামীর অভিযোগ, স্ত্রীর পরিবার তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক বলে জানিয়েছিল। অথচ বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর আচরণে তিনি নানা অস্বাভাবিকতা দেখতে পান। কখনও অকারণে চিৎকার, কখনও ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর, কখনও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ—এমনকি সন্তানদের বিনা কারণে মারধরও করতেন তিনি।
এর পরে স্ত্রীর চিকিৎসা করালে জানা যায়, তিনি স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে স্ত্রী একদিন বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। এর পর ওই স্বামী বিবাহ বাতিলের মামলা করেন প্রতারণার অভিযোগে। পাশাপাশি, বিকল্পভাবে তিনি নির্যাতনের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদেরও আবেদন জানান।
ফ্যামিলি কোর্ট অবশ্য তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। কারণ, সেখানে তিনি প্রমাণ করতে পারেননি যে তাঁর স্ত্রী বিয়ের আগেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে স্বামী আপিল করেন হাইকোর্টে। কিন্তু এখানেও তাঁর আবেদন টিকল না। বিচারপতি রাজানি দুবে এবং বিচারপতি অমিতেন্দ্র কিশোর প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট বলেন, কেবল প্রেসক্রিপশন জমা দিলেই প্রমাণ হয় না যে স্ত্রী সত্যিই স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।
ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, দু’জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা করিয়েছিলেন স্ত্রী, কিন্তু কাউকেই আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হাজির করেননি। তাছাড়া কোনও ডায়াগনসিস সার্টিফিকেট বা ক্লিনিক্যাল রিপোর্টও জমা দেননি, যা নিশ্চিত করে যে বিবাহের সময় থেকেই স্ত্রী গুরুতর মানসিক ব্যাধিতে ভুগছিলেন।
এই প্রসঙ্গে আদালত ১৯৬৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি পুরনো মামলার রায় উদ্ধৃত করে জানায়, চিকিৎসক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য ছাড়া মানসিক অসুস্থতা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ১২ ধারায় বিবাহ বাতিল চাইলে প্রমাণের ভার সম্পূর্ণভাবে আবেদনকারীর ওপর বর্তায়। শুধুমাত্র কিছু প্রেসক্রিপশন জমা দেওয়া বা প্রতিপক্ষের থেকে কোনও প্রতিবাদ না আসা যথেষ্ট নয়। নির্ভরযোগ্য ও শক্ত প্রমাণ হাজির করতে হবে।
অতএব আদালত জানিয়ে দেয়, যেহেতু আবেদনকারী স্বামী চিকিৎসক বিশেষজ্ঞকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকেননি এবং তাঁর স্ত্রীর মানসিক অসুস্থতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাই কেবল প্রেসক্রিপশনকে প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না। শেষ পর্যন্ত ফ্যামিলি কোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে এবং স্বামীর আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়।