সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিবাহবিচ্ছেদে সম্মতি দেয়, কারণ আদালতের মতে, এক বছর নয় মাসের দাম্পত্য জীবন ভেঙে পড়েছে। তা আর আগের মতো অবস্থায় ফেরার জায়গায় নেই।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 August 2025 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম বিয়ের ডিভোর্স (Divorce) থেকে প্রাপ্ত ভরণপোষণ বা খোরপোশ (Alimony) পরবর্তী বিবাহবিচ্ছেদে আর্থিক সহায়তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনওভাবেই প্রাসঙ্গিক নয়, এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট ( Supreme Court )। দ্বিতীয় বিবাহের (second marriage) বিচ্ছেদের সময়ে স্ত্রী ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন না- এই যুক্তিতে স্বামীর করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
এই মামলায় এক ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী ইতিপূর্বে প্রথম স্বামী থেকে সন্তোষজনক ভরণপোষণ পেয়েছেন, তাই দ্বিতীয় বিবাহবিচ্ছেদে তাঁর আর্থিক সহায়তার অধিকার নেই। তবে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, "প্রথম বিয়ে থেকে পাওয়া ভরণপোষণ বর্তমান মামলার বিচারে অপ্রাসঙ্গিক।"
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিবাহবিচ্ছেদে সম্মতি দেয়, কারণ আদালতের মতে, এক বছর নয় মাসের দাম্পত্য জীবন ভেঙে পড়েছে। তা আর আগের মতো অবস্থায় ফেরার জায়গায় নেই।
স্ত্রী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা আইন (আইপিসি ৪৯৮এ ধারা) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছিলেন। প্রথমে দু’পক্ষ মিউচুয়াল ডিভোর্সে সম্মত হলেও পরে স্ত্রী সেই সমঝোতা থেকে সরে আসেন। এরপর স্বামী বম্বে হাইকোর্টে মামলা খারিজের আবেদন জানালে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। সেখান থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
সুপ্রিম কোর্টে স্বামী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান এবং স্ত্রীকে মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকায় (Kalpataru Habitat) তাঁর ৪ কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিকল্প হিসেবে তিনি নগদ ৪ কোটি টাকাও দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্ত্রী দাবি করেন ১২ কোটি টাকার স্থায়ী ভরণপোষণ।
এর উত্তরে স্বামী জানান, তিনি বর্তমানে কর্মহীন এবং তাঁর প্রথম বিয়ে থেকে জন্মানো অটিজমে আক্রান্ত সন্তানের দেখভালের জন্য আগের চাকরি ছেড়েছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, বিয়েটি প্রায় দুই বছরও টেকেনি এবং তা ভেঙে পড়েছে। স্বামীর দেওয়া ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত এবং বিচ্ছেদের পরে স্ত্রীর ভরণপোষণের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। স্বামী বর্তমানে কর্মহীন এবং একজন শিশুর দেখভাল করছেন। স্ত্রী নিজে উপার্জনক্ষম, আইটি ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ‘‘বর্তমানে আবেদনকারী কর্মহীন। সেই অবস্থায় আরও ভরণপোষণ চাওয়ার যুক্তি নেই।’’ স্ত্রীর যুক্তি ছিল, স্বামীর লিংকডইন প্রোফাইলে তাঁর চাকরির তথ্য রয়েছে। আদালত এই যুক্তিও খারিজ করে দেয়।
সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, গার্হস্থ্য হিংসার মামলাটি ভাসাভাসা অভিযোগে ভরা এবং দাম্পত্য কলহকেই অতিরঞ্জিত করে মামলায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। তাই ওই মামলা বাতিল করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, স্বামীকে ৩০ আগস্ট, ২০২৫-এর মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর সংক্রান্ত গিফট ডিড সম্পন্ন করতে হবে। তারপরেই বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হবে। এই মামলায় স্বামীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাধবী দিওয়ান এবং স্ত্রীর পক্ষে তিনি নিজেই সওয়াল করেন।