কেন্দ্রীয় সরকার সব রাজ্যে আসামের মতো ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। নতুন আইনে ভারতে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য আরও কড়া শর্ত জারি করা হয়েছে।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 3 September 2025 23:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিটেনশন ক্যাম্প বা আটক শিবির এতদিন অসমেই সীমাবন্ধ ছিল। সে রাজ্যে বিদেশি বলে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক রাখা হয়। অভিবাসী ও বিদেশি বিষয়ক নয়া আইনে সব রাজ্য সরকারকেই ডিটেনশন ক্যাম্প চালু করতে বলা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে সারা দেশে চালু হওয়া ওই আইনে বলা হয়েছে প্রাথমিক তদন্তে কোনও ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় প্রমাণে ব্যর্থ হলে বা নথিপত্র সন্দেহজনক মনে হলে তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে পারে। এই সংক্রান্ত মামলাও আর সাধারণ আদালতের বিচারের এক্তিয়ারে থাকছে না। অসমের মতো সন্দেহজনক বিদেশিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাছে পেশ করা হবে। প্রশাসনের তরফে এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন জেলাশাসকেরা। প্রাথমিক তদন্ত তদারকের ভার জেলাশাসকদের দেওয়া হয়েছে সদ্য চালু হওয়া আইনে। দু’দিন আগে আইনটি সারা দেশে কার্যকর করেছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
নয়া আইনটি এমন সময় চালু করা হল যখন দেশ জুড়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অসম বাদে বাকি রাজ্যগুলিতে ডিটেনশন ক্যাম্প না থাকায় ধৃতদের পুশ ব্যাক বা ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএসএফ-বিজিপি বৈঠকে বাংলাদেশের তরফে এই ব্যাপারে আপত্তি করা হয়।
নয়া আইনে বিদেশি নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু অতিরিক্ত শর্ত চাপানো হয়েছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কর্মসূত্রে ভারতে আসা বিদেশি নাগরিকদের সরাসরি পেট্রোলিয়াম-সহ যাবতীয় জ্বালানি ক্ষেত্র, পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে যুক্ত করা যাবে না। এই সব ক্ষেত্রে ভারত সরকারের বিশেষ অনুমতি নেওা বাধ্যতামূলত করা হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য।
বলা হয়েছে, ভারতের কোনও পর্বতের চূড়ায় বিদেশি নাগরিকেরা সরাসরি যেতে পারবেন না। এই ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। খুন, ধর্ষণ-সব গুরুতর অপরাধে যুক্ত কোনও বিদেশি নাগরিককে ভারতে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না। ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে ওই জাতীয় অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও তাদের এ দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।
নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী একমাত্র নেপাল ও ভুটানের নাগরিকেরা নিজের দেশের পাসপোর্ট দেখিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। তাদের ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে ওই দুই দেশের নাগরিক চিন, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাদের সবর্দা নিজেদের দেশ থেকে ভারতে আসতে হবে।