দেশজুড়ে শুরু হল সেনসাস ২০২৭। এবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে জনগণনা। নিজেই অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় আরও সহজ হচ্ছে এই বিশাল প্রক্রিয়া।

জনগণনা
শেষ আপডেট: 1 April 2026 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে জনগণনা। বুধবার, ১ এপ্রিল শুরু হবে সেনসাস ২০২৭ (Census 2027)-এর প্রথম ধাপ (First Phase)। এটাই ভারতের (India) ১৬তম জনগণনা এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম। তবে এবার প্রথম পুরো প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল (Digital Census), সঙ্গে থাকছে ‘সেলফ-এনিউমারেশনে’র (Self-Enumeration) সুযোগ।
প্রথম ধাপে ‘হাউস লিস্টিং অ্যান্ড হাউজিং অপারেশনস’ (Housing Listing and Housing Operations) চলবে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই পর্যায়ে মোট ৩৩টি প্রশ্ন (33 Questions) রাখা হয়েছে, যা ঘরবাড়ির অবস্থা, বাসিন্দার সংখ্যা, দম্পতির সংখ্যা, পরিবারের প্রধানের নাম, লিঙ্গ, সামাজিক শ্রেণি (Social Category), খাদ্যাভ্যাস (Food Habits), যানবাহন ও অন্যান্য সুবিধা (Amenities) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে।
নাগরিকরা চাইলে নিজেই তথ্য জমা দিতে পারবেন নির্দিষ্ট ‘এসই পোর্টালে’ (SE Portal)। মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ ইন, লোকেশন চিহ্নিত করে পরিবারের তথ্য জমা দিলেই মিলবে ১৬-সংখ্যার ‘এসই আইডি’ (SE ID)। পরে গণনাকারী এলে সেই নম্বর দেখালেই হবে। এই স্ব-গণনার সুযোগ মিলবে ফিল্ডওয়ার্ক শুরুর আগে ১৫ দিনের উইন্ডোতে। ১৬টি ভাষায় (Languages) তথ্য জমা দেওয়া যাবে বলে জানা যাচ্ছে।
দিল্লির (Delhi) মতো কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সময়সূচিও ঘোষণা হয়েছে ইতিমধ্যে। যেমন নিউ দিল্লি মিউনিসিপাল কাউন্সিল (NDMC) ও দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে (Delhi Cantonment) ১৬ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চলবে প্রথম ধাপ, তার আগে ১ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মিলবে সেলফ-এনিউমারেশনের সুযোগ।
এ প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ (Mritunjay Kumar Narayan) স্পষ্ট জানিয়েছেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন (Confidential)। ‘সেনসাস অ্যাক্টে’র (Census Act) ধারা ১৫ অনুযায়ী এই তথ্য আরটিআইয়ের (RTI) আওতায় পড়ে না, আদালতেও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
এবারের জনগণনায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ দিক ‘লিভ-ইন’ (Live-in) সম্পর্কে থাকা দম্পতিরাও নিজেদের স্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে জানালে বিবাহিত (Married) হিসেবে গণ্য হবেন।
পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষ কর্মী (Field Workers) নিয়োগ করা হবে। ট্যাব বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন তাঁরা। ‘সিএমএমএমএসে’র (CMMMS System) মাধ্যমে রিয়েল-টাইম নজরদারি ও ডেটা যাচাই হবে।
উল্লেখ্য, কোভিডের (COVID-19) কারণে পিছিয়ে যাওয়া এই জনগণনা এবার দু’ধাপে সম্পন্ন হবে— প্রথম ধাপ চলতি বছর, আর দ্বিতীয় ধাপ ‘পপুলেশন এনিউমারেশন’ (Population Enumeration) হবে ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারিতে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ১.০২ কোটি মানব-দিবস (Person-days) কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানানো হয়েছে।