২০২৬ সালের এপ্রিলে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল জনগণনা। দুই ধাপে চলবে এই বিশাল কর্মকাণ্ড। কোন কোন নথি ও তথ্য হাতের কাছে রাখতে হবে, জানুন বিস্তারিত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 December 2025 18:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসছে এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে জাতীয় জনগণনা ২০২৭ (National Census)। কেন্দ্রীয় সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, এই জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল (Digital Census) পদ্ধতিতে করা হবে। তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (Mobile Application)।
এর জন্য কেন্দ্র মোট ১১,৭১৮.২৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে সরকার। কাজ হবে দুই পর্যায়ে, প্রথমে ঘর গণনা (House-Listing) ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর, তারপর জনসংখ্যা গণনা (Population Enumeration) চলবে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত। লাদাখ ও বরফে ঢেকে থাকা জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলের কিছু এলাকায় জনসংখ্যা গণনা হবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এবারই প্রথম জনগণনায় জাতি-ভিত্তিক তথ্য (Caste Enumeration) সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে এই তথ্য তোলা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে লাগবে ৩০ লক্ষ ফিল্ড-ওয়ার্কার (Enumerators), যাঁদের বেশিরভাগই হবেন সরকারি স্কুলশিক্ষক। তাঁদের নিয়োগ করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার। BLO-দের মতোই এই কর্মীরা নিজেদের নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি জনগণনার কাজ করবেন।
প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য নথিভুক্ত করার পর সেগুলি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মন্ত্রকের কাছে মেশিন-রিডেবল (Machine Readable) ফরম্যাটে পাঠানো হবে, যাতে দ্রুত নীতি নির্ধারণে ব্যবহার করা যায়।
ডিজিটাল জনগণনার নতুন উদ্যোগ
সরকার ২০২৭ সালের জনগণনার জন্য একাধিক নতুন প্রযুক্তি ভিত্তিক পদক্ষেপ করেছে-
রোজগারের সুযোগ ১.০২ কোটি ‘ম্যান-ডে’
সরকারের হিসাবে, জনগণনা প্রকল্পে তৈরি হবে ১.০২ কোটি ম্যান-ডে (Man-Days) কর্মসংস্থান। কর্মীদের ডিজিটাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট, মনিটরিং ও কো-অর্ডিনেশন শেখানো হবে, যা ভবিষ্যতে তাঁদের পেশাগত দক্ষতাও বাড়াবে।
ভারতের ১৬তম জনগণনা, স্বাধীনতার পর অষ্টম
২০২৭ সালের এই ডিজিটাল জনগণনা হবে দেশের ১৬তম এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম। এটি দেশের প্রতিটি গ্রাম, শহর ও ওয়ার্ড স্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক তথ্যভান্ডার (Primary Data Source) তৈরি করবে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।
সরকারের মতে, এই তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতের সরকারি পরিষেবা, নীতি নির্মাণ ও পরিকল্পনা তৈরির অন্যতম মূল ভিত্তি হয়ে উঠবে।