উত্তর-মধ্য রেলওয়ে যাত্রী সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল। প্রয়াগরাজ, ঝাঁসি ও আগ্রা বিভাগের মোট প্রায় ১,৮০০ কোচে বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। লাগেজ চুরি বা অপরাধ ঘটলেই দ্রুত ধরা যাবে দোষীকে।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 7 September 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশ-বিহারের উপর দিয়ে ট্রেন যাচ্ছে মানেই নিরাপত্তাহীনতা। তার কারণ পর পর ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনা। সাম্প্রতিক কালে এমন অনেক খবর সামনে এসেছে যেখানে ব্যাগ চুরি গেছে কারোর তো রিজার্ভড কামরায় টিকিট ছাড়া উঠে পড়েছেন কেউ। অনেকে আক্রান্তও হয়েছেন। এক্ষেত্রে সিসিটিভি না থাকায় অপরাধীকে ধরা সম্ভব হয়নি। প্রশ্নের মুখে পড়েছে যাত্রী সুরক্ষা। এমন পরিস্থিতিতে সুরক্ষা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল উত্তর-মধ্য রেলওয়ে (এনসিআর)।
প্রয়াগরাজ, ঝাঁসি ও আগ্রা বিভাগের মোট প্রায় ১,৮০০ যাত্রীবাহী কোচে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা। রেলের দাবি, এই উদ্যোগ ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের সুরক্ষা ও নজরদারিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
রেল সূত্রে খবর, প্রকল্পের আওতায় ৮৯৫টি আধুনিক এলএইচবি (লিঙ্ক হফম্যান বুশ) কোচ এবং ৮৮৭টি আইসিএফ (ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি) কোচে বসানো হবে ক্যামেরা। অর্থাৎ আধুনিক রেক থেকে শুরু করে পুরনো কোচ- সব ক্ষেত্রেই থাকবে নজরদারি। এর মধ্যে প্রিমিয়াম ট্রেনগুলির জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকছে। প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস এবং শ্রমশক্তি এক্সপ্রেসের মতো নির্বাচিত ট্রেনে থাকবে এআই-চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা, যা রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও মনিটরিং করতে পারবে।
কোথায় কত ক্যামেরা?
প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি, তৃতীয় শ্রেণির এসি কোচ এবং চেয়ার কারে বসানো হবে ৪টি করে ক্যামেরা। অন্যদিকে, সাধারণ কামরা, এসএলআর কোচ ও প্যান্ট্রি কারে থাকবে ৬টি ক্যামেরা। এই সব ক্যামেরা এমনভাবে তৈরি, যাতে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে চলমান ট্রেনে বা অল্প আলোতেও স্পষ্ট ফুটেজ রেকর্ড করা সম্ভব হয়।
কোন কোন ট্রেনে প্রথমে বসবে ক্যামেরা?
প্রকল্পের প্রথম ধাপে যেসব ট্রেনে ক্যামেরা বসানো হবে, সেগুলি হল—
প্রতিটি কোচে থাকবে চারদিকের প্রবেশপথ ও করিডরের উপর নজরদারি, যাতে যাত্রীদের সমস্ত গতিবিধি রেকর্ডে আসে।
মনিটরিং ব্যবস্থা
স্থাপিত ক্যামেরাগুলি থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ সরাসরি মনিটর করা হবে এনসিআর সদর দফতরে। পাশাপাশি আগ্রা, ঝাঁসি ও প্রয়াগরাজের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারের অফিস থেকেও নজরদারি চালানো হবে। ভবিষ্যতে লোকোমোটিভ ক্যাবিনেও নজরদারি যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উত্তর-মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শশীকান্ত ত্রিপাঠী বলেন, 'যাত্রী সুরক্ষা আমাদের প্রথম অঙ্গীকার। সিসিটিভি নজরদারি শুধু বেআইনি কাজকর্ম ঠেকাতেই সাহায্য করবে না, বরং তদন্ত ও মনিটরিংও অনেক দ্রুত করা যাবে।'
রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগ যাত্রীদের নিরাপত্তার মান আরও বাড়াবে এবং রেলযাত্রায় সাধারণ মানুষের আস্থা দৃঢ় করবে। খুব শীঘ্রই শুরু হবে এই প্রকল্পের ইনস্টলেশন কাজ।