সোমবার দুপুর প্রায় দু’টো নাগাদ উত্তরপ্রদেশের নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি গাড়ি গেট নম্বর ২ ভেঙে বিধানসভা চত্বরে প্রবেশ করে। নিরাপত্তারক্ষীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়িটি ভিতরে ঢুকে পড়ে। এরপর গাড়িটি দ্রুত এগিয়ে যায় স্পিকারের দফতরের দিকে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 April 2026 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা (Delhi Redfort Blast) এখনও কেউ ভোলেনি। এবার সেই রাজধানীতে ফের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন। দিল্লি বিধানসভা চত্বরে ঘটে গেছে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
সোমবার দুপুরে মুখোশ পরা এক ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে বিধানসভার একটি গেট ভেঙে (Delhi Assembly Security Breach) ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং পরে ধরা না পড়েই সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় ফাঁক সামনে এসেছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর প্রায় দু’টো নাগাদ উত্তরপ্রদেশের নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি গাড়ি গেট নম্বর ২ ভেঙে বিধানসভা চত্বরে প্রবেশ করে। নিরাপত্তারক্ষীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়িটি ভিতরে ঢুকে পড়ে। এরপর গাড়িটি দ্রুত এগিয়ে যায় স্পিকারের দফতরের দিকে।
দিল্লি সচিবালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গাড়ির চালক স্পিকারের দফতরের সামনে গিয়ে একটি ফুলের তোড়া রেখে দেন। এরপরই তিনি সেখান থেকে সরে পড়েন। শুধু তাই নয়, স্পিকারের গাড়ির দিকেও কালি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে আরও প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি বাজেট অধিবেশন চলাকালীন বিধানসভায় বোমা হুমকির ঘটনাও সামনে এসেছিল। তার কিছুদিনের মধ্যেই এই ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রশাসনের মতে, দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় পৌঁছে যায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। স্পিকারের দফতরের সামনে রাখা ফুলের তোড়াটি পরীক্ষা করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু মেলেনি বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
এই ঘটনার পর গোটা বিধানসভা চত্বর জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গাড়িটির গতিবিধি ও চালকের পরিচয় জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে একটি গাড়ি এত সহজে গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
সব মিলিয়ে, রাজধানীর মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এমন ঘটনা প্রশাসনের কাছে বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার পিছনের উদ্দেশ্য এবং জড়িত ব্যক্তির পরিচয় সামনে আনার চেষ্টা চলছে।