শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারতে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়োগ করে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ। এতে পাকিস্তানের সরাসরি যোগ লুকোনোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের।

গ্রেফতার লস্কর জঙ্গি
শেষ আপডেট: 30 March 2026 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে হামলার বড়সড় ছক ভেস্তে দিল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। বাংলাদেশে (Bangladesh News) বসে ভারতে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে লস্কর-ই-তইবা (LeT)-র এক সক্রিয় জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশ্যাল সেল। ধৃতের নাম শাব্বির আহমেদ লোন ওরফে রাজা ও কাশ্মীরি।
দিল্লি পুলিশের দাবি, শাব্বির দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারিতে ছিল এবং সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে হামলার পরিকল্পনা চালাচ্ছিল বিদেশি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে।
বাংলাদেশ থেকেই চালাচ্ছিল জঙ্গি নেটওয়ার্ক
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে লোন লস্করের ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল। অভিযোগ, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর নির্দেশে সে ভারতে হামলার ছক কষছিল।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারতে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়োগ করে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ। এতে পাকিস্তানের সরাসরি যোগ লুকোনোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের।
মেট্রো পোস্টার কেসে বড় লিঙ্ক
সম্প্রতি দিল্লি ও কলকাতা সহ একাধিক শহরে ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ পোস্টার লাগানোর ঘটনায় যে লস্কর মডিউল ধরা পড়েছিল, তার সঙ্গেও এই জঙ্গির যোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফেব্রুয়ারিতে ওই মামলায় ৮ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, এই পুরো চক্রের ‘হ্যান্ডলার’ ছিল শাব্বির লোন।
তদন্তকারীদের দাবি, শাব্বির লোন একজন প্রশিক্ষিত জঙ্গি। পাকিস্তানের মুজফ্ফরাবাদে সে ‘দাউরা-এ-আম’ (প্রাথমিক) ও ‘দাউরা-এ-খাস’ (উন্নত) প্রশিক্ষণ নেয়। ২০০৭ সালে অস্ত্র-সহ গ্রেফতার হয়েছিল সে। তার কাছ থেকে একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে তিহার জেলে প্রায় এক দশক কাটানোর পর জামিনে মুক্তি পায়।
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সে বাংলাদেশে পালিয়ে যায় এবং সেখান থেকেই নতুন করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা এখন তাকে জেরা করে গোটা নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস, নিয়োগ চক্র এবং সম্ভাব্য টার্গেট সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত জঙ্গি ভিড় এলাকায় বা ধর্মীয় স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিল। তার নির্দেশেই গ্রেফতার হওয়া অন্য অভিযুক্তদের ব্রেনওয়াশ করে লস্করের মতাদর্শে যুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই গ্রেফতারির ফলে বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে গেল বলেই মনে করছে গোয়েন্দা মহল।