বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে লস্কর জঙ্গি গ্রেফতার দিল্লিতে।আইএসআই যোগ, নিয়োগ ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের খোঁজে তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।

দিল্লি থেকে গ্রেফতার জঙ্গি
শেষ আপডেট: 30 March 2026 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি (Delhi) সীমান্তের কাছে বড় সাফল্য নিরাপত্তা বাহিনীর (security agencies)। বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলার (terror attack) ছক কষার অভিযোগে লস্কর-ই-তইবার (Lashkar-e-Taiba) এক জঙ্গিকে গ্রেফতার (arrest) করা হয়। সোমবার এই তথ্য জানালেন আধিকারিকরা।
ধৃতের নাম শব্বির আহমেদ লোন (Shabbir Ahmad Lone), ওরফে রাজা (Raja), ওরফে কাশ্মীরি (Kashmiri)। জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) শ্রীনগর (Srinagar) জেলার কঙ্গনের (Kangan) বাসিন্দা সে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল (Delhi Police Special Cell) কেন্দ্রীয় সংস্থার (central agencies) সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাকে পাকড়াও করে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে হামলার ছক (India-focused terror operations) চালানোর অভিযোগে তার ওপর নজর রাখা হয়েছিল।
লোন বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল। সেখান থেকেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর নির্দেশে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ (anti-India activities) চালাতে শরু করে। অভিযোগ, বাংলাদেশি নাগরিকদের (Bangladeshi nationals), এমনকি ভারতে অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদেরও নিয়োগ (recruitment) করত সে। উদ্দেশ্য, সন্ত্রাসী হামলা চালানো, আর সেইসঙ্গে পাকিস্তানের যোগসাজশ (Pakistan involvement) আড়াল করা।
এই গ্রেফতারির কয়েক দিন আগেই দিল্লি ও দক্ষিণ ভারতের (South India) বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় একটি লস্কর ঘনিষ্ঠ মডিউল (terror module) ভেঙে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযোগ, তারা দিল্লি ও কলকাতার (Kolkata) একাধিক জায়গায় ভারতবিরোধী পোস্টার (anti-India posters) লাগিয়েছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, শুধুই হামলার পরিকল্পনা নয়, প্রোপাগান্ডা (propaganda) ছড়ানোর চেষ্টাও চলছিল সমান্তরালভাবে।
আধিকারিকদের দাবি, লোন লস্করের প্রশিক্ষিত জঙ্গি (trained militant)। মুজাফ্ফরাবাদের (Muzaffarabad) একটি শিবিরে সে ‘দৌরা-এ-আম’ (Daura-e-Aam) ও ‘দৌরা-এ-খাস’ (Daura-e-Khaas)— দুই ধরনের প্রশিক্ষণই নিয়েছে। গত প্রায় দুই দশক ধরে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের (top leadership) সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।
২০০৭ সালে (2007) প্রথমবার স্পেশাল সেলের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল লোন। তখন তার কাছ থেকে একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল ও গ্রেনেড (grenades)-সহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র (arms and ammunition) উদ্ধার হয়। তদন্তে তার সরাসরি যোগ পাওয়া গিয়েছিল ২৬/১১ মুম্বই হামলার (26/11 Mumbai attacks) চক্রী হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed) ও লস্কর কমান্ডার জাকি-উর-রহমান লাখভি (Zaki-ur-Rehman Lakhvi)-র সঙ্গে।
২০১৮ (2018) পর্যন্ত তিহাড় জেলে (Tihar Jail) বন্দি থাকার পর জামিনে (bail) মুক্তি পায় সে। এরপর বাংলাদেশে গিয়ে ফের জাল (network) গড়ে তোলে এবং ভারতে হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে থাকে বলে অভিযোগ।
এখন লোনকে জেরা (interrogation) করে গোটা চক্রের খোঁজ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি— নিয়োগের পথ (recruitment channels), অর্থের উৎস (funding routes) ও সম্ভাব্য টার্গেট (targets) সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।