মাঝবয়সি জাহাদ (Zahhad) একজন রূপান্তরিত পুরুষ। অর্থাৎ সার্জারির মাধ্যমে নারী থেকে পুরুষ (Transgender man) হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী জিয়া (Ziya Pavel) পাভেল ঠিক বিপরীত। তিনি পুরুষ থেক রূপান্তরিত নারী (Trans Woman) ।

কেরল হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 3 June 2025 08:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝবয়সি জাহাদ (Zahhad) একজন রূপান্তরিত পুরুষ। অর্থাৎ সার্জারির মাধ্যমে নারী থেকে পুরুষ (Transgender man) হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী জিয়া (Ziya Pavel) পাভেল ঠিক বিপরীত। তিনি পুরুষ থেক রূপান্তরিত নারী (Trans Woman) । দু বছর আগে, গোটা দেশ শুধু নয়, বিশ্বের নানাপ্রান্তে খবরের শিরোনাম হন কেরলের কোঝিকোড়ের (KoZhikode, Kerala) এই রূপান্তরিত দম্পতি যখন তাঁরা সন্তানের বাবা-মা হন। ভারতে তাঁরাই প্রথম রূপান্তরিত পিতামাতা।
কিন্তু বিজ্ঞানের সহায়তায় ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণ হলেও তাঁদের দাম্পত্য স্বীকার করে না আইন। ফলে তাঁদের সন্তানের বার্থ সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করে কোঝিকোড় পুরসভা। কারণ, বার্থ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত প্রচলিত আইনে রূপান্তরিত দম্পতি বা ট্রাম্স কাপেলের কোনও উল্লেখ নেই। ফলে তাদের সন্তানের বার্থ সার্টিফিকেটও দিতে অস্বীকার করে পুরসভা।
সেই আইনি বাধা দূর করে দিয়েছেন কেরল হাই কোর্টের বিচারপতি জিয়াদ রহমান এএ (Justice Ziad Rahman AA)। বিচারপতি জাহাদ ও জিয়ার সন্তানের নামে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার নির্দেশ জারি করে রায়ে ওই দম্পতিকে ‘পিতামাতা’ (Parent) বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিচারপতি রায়ে লিখেছেন, সন্তানের পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বদা ‘বাবা’ ও ‘মা’ থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। সে ওই কাদের জৈবিক সন্তান সেটাই বিচার্য হওয়া উচিত। বাবা-মায়ের লিঙ্গ পরিচয় জরুরি নয়। এ ক্ষেত্রে কে বাবা আর কে মা নির্ধারণ না করে তাদের প্যারেন্ট অর্থাৎ বাবা-মা বলে ধরে নেওয়াই যথেষ্ট।
আরও উল্লেখযোগ্য হল জাহাদ ও জিয়ার হয়ে যিনি মামলা লড়েছেন সেই পদ্ম লক্ষ্মী হলেন কেরলের প্রথম রূপান্তরকামী আইনজীবী। আদালতে তিনি বলেন, ওই দম্পতির আবেদন অগ্রাহ্য করার অর্থ হবে সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখিত অধিকার হরন। সেখানে পারসন বা ব্যক্তি বলতে নারী বা পুরুষ বলে কিছুর উল্লেখ নেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কেরল হাই কোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের গত বছরের রায়ের বিপরীত। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রূপান্তরকামী কিংবা সমকামীদের একত্রবাসকে দাম্পত্য হিসাবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। বেঞ্চ দাবিটির বিরোধিতাও করেনি। শীর্ষ আদালত ওই রায়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বলে। যদিও শুনানিতে কেন্দ্র এবং একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্য আবেদনের বিরোধিতা করে বলে এই ধরনের দাম্পত্য ভারতের সামাজিক সম্পর্কের ঐতিহ্যের পরিপন্থী। ভারতীয় সমাজ শুধুমাত্র জৈবিক নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক এবং দাম্পত্যকে স্বীকার করে।
কেরল হাই কোর্টের বিচারপতি বিপরীত রায় দিতে গিয়ে সন্তানের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শিশুটির বার্থ সার্টিফিকেট পাওয়ার অধিকার আছে। সে যখন জন্মেছে তখন তার বাবা-মা থাকাও স্বাভাবিক। জন্ম সার্টিফিকেটের উপর নির্ভর করে নানা সরকারি সুবিধা পাওয়া।