সিএএ বৈধ না অবৈধ—শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত রায় শোনানোর পথে এগোচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 February 2026 08:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯ থেকে ২০২৬, এই সময়ের মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বারে বারে তোলপাড় হয়েছে দেশ। এই আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বলি হয়েছেন প্রায় ৫৬ জন। দেশের অন্যত্র কম বেশি হিংসা অব্যাহত ছিল। নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ভারত সরকার আইনটি কার্যকর করলেও সেটি বৈধ নাকি অবৈধ এই প্রশ্নের এখনও আদালতে মীমাংসা হয়নি। অবশেষে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী ৫ থেকে ১২ মে'র মধ্যে এই মামলার শুনানি শেষ করে ফেলা হবে। শুনানি শেষের মাসখানেকের মধ্যে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে সর্বোচ্চ আদালত।
এই বিষয়ে মোট ২৪৩টি মামলা সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে। মূল মামলাকারী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অফ মুসলিম লিগ। সেই মামলায় যুক্ত হয়েছেন টিএমসি, সিপিএম এবং ডিএমকে সহ একাধিক রাজনৈতিক দল ও এনজিও। মামলায় আইনটির উপর স্থগিতার দেশ চাওয়া হয়েছিল আবেদনকারীদের তরফে। কিন্তু তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় সেই আরজি রাখেননি। ২০২৪ সাল থেকে আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হয়ে গিয়েছে দেশে। ওই আইনে বহু না বহু মানুষকে ইতিমধ্যে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। তাদের বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। যদিও যত মানুষকে এই আইনে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল্লির তরফে দেওয়া হয়েছিল সেই তুলনায় পেয়েছেন খুব সামান্য জন।
ওই আইনে পাকিস্তান আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বিতাড়িত হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান শিখ এবং জৈন সম্প্রদায়ের মানুষকে ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে মুসলিমদের।
বিরোধীদল এবং নাগরিক সমাজের একাধিক সংগঠন আইনের এই বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য নাগরিকত্ব প্রদানে কখনও কোনো বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা চলে না।
অন্যদিকে ভারত সরকারের বক্তব্য দেশভাগের সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে দুদেশের মানুষই ভবিষ্যতে তাদের পছন্দের ভূমি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে বিশেষ কারণে। কেউ যদি ধর্মীয় বিদ্বেষ নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হন তাহলে ভারত সরকার তাদের নাগরিকত্ব দেবে এমন সিদ্ধান্ত দেশভাগের সময় হয়ে আছে। বর্তমান সরকার সেই সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দিয়েছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং তাদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের ঘটনা নেই। বরং তাদের দ্বারা বাকিরা আক্রান্ত এমন ঘটনা বহু আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আরও একটি বক্তব্য জোরালোভাবে আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের বিভাজন না করার বিষয়টি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে ভিনদেশের নাগরিকদের জন্য। এই ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়াতে কোন আইনি তথা সংবিধানিক বিধি নিষেধ নেই।