পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তৌসিফের বাড়ি পাটনার ফুলওয়ারি শরিফ এলাকায়। তার বাবা হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী, মা শিক্ষিকা। পড়াশোনা করেছে সেন্ট ক্যারেন্স স্কুলে।

তৌসিফ (ছবি- সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 18 July 2025 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটনার অন্যতম নামী হাসপাতালে ঢুকে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে খুন করল কয়েকজন। সেই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। খুনের পর যেভাবে তারা বন্দুক নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় শহরে, তা ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রশ্নের মুখে প্রশাসন। ভোটের আগে বিরোধীরা আঙুল তুলছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দিকে।
খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে তৌসিফ বাদশার। বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ জন দুষ্কৃতীর একটি দল নির্লিপ্তভাবে ঢুকে পড়ে হাসপাতালে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সামনের সারিতে হাঁটছে এক যুবক, শার্ট খোলা, হাতে বন্দুক। তার হাঁটায় ভয়ের চিহ্ন নেই, মুখেও নেই তেমন ছাপ। কোনও তাড়াহুড়ো নয়, মুখ ঢাকার চেষ্টা নেই। সোজা আইসিইউ-তে গিয়ে গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চন্দন মিশ্র নামে এক গ্যাংস্টার।
২৪টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে চন্দন মিশ্রর নামে। যার মধ্যে রয়েছে এক ডজনেরও বেশি খুনের অভিযোগ। তিনি চিকিৎসার জন্য প্যারোলে ছাড়া পেয়ে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। পুলিশের নজরদারি ছিল। কিন্তু কোনও কিছু তোয়াক্কা না করে পাঁচজনের দল নির্বিঘ্নে হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে এই কাণ্ড ঘটিয়ে বেরিয়ে যায়।
সকালে ৭.৩০ নাগাদ প্রথম খবর ছড়ায়, আর ৮টার মধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিশের তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঁচ অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে।
ফুটেজে স্পষ্ট যাকে প্রথমে দেখা যায়। সে হল তৌসিফ বাদশা। গুলি চলার পর বাকিরা দৌড়ে বেরিয়ে গেলেও, তৌসিফ বেরিয়ে যায় একইভাবে, অবিচল হাঁটার ছন্দে, মুখের অঙ্গভঙ্গি আগের মতোই।
পরবর্তীতে ভাইরাল হওয়া দু'টি ছবি এই নৃশংস খুনকে আরও বেশি করে চমকে দেওয়ার মতো করে তোলে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাইকে তিনজন ববসে, একদম পেছনে তৌসিফ, এক হাতে বন্দুক উঁচিয়ে, অন্য হাতে জয়ের চিহ্ন। অন্য এক হামলাকারীও দু’হাত তুলে উদযাপন করছে।
কে এই তৌসিফ বাদশা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তৌসিফের বাড়ি পাটনার ফুলওয়ারি শরিফ এলাকায়। তার বাবা হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী, মা শিক্ষিকা। পড়াশোনা করেছে সেন্ট ক্যারেন্স স্কুলে। অস্ত্র আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আগেই একটি মামলা ছিল। সম্প্রতি সে সুপারি কিলিংয়ের জগতে নাম লেখায়। কাউকে খুন করতে বা খুনের রসদ জোগাতে টাকা নিচ্ছিল সে।
পুলিশ মনে করছে, এই খুনের পেছনে রয়েছে চন্দন মিশ্র ও এক সময়ের তার সঙ্গী গ্যাংস্টার শেরুর পুরনো শত্রুতা। ভাগলপুর জেলে থাকাকালীন দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে চন্দন নিজে আলাদা হয়ে গেলেও নিজের গ্যাং চালাতে থাকে শেরু, ‘শেরু গ্যাং’ নামেই।
নামী হাসপাতালে, পুলিশের পাহারায় থাকা বন্দিকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুনে একযোগে মাঠে বিরোধীরা। আরজেডি নেতা তথা প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'সরকারি ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুষ্কৃতীরা হাসপাতালের আইসিইউ-তে ঢুকে রোগীকে গুলি করে মারল। বিহারে কেউ কি নিরাপদ? ২০০৫-এর আগে কি এমন ঘটত?'
পুর্ণিয়া লোকসভা কেন্দ্রের নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব জানিয়েছেন, তাঁকেও এই মামলা থেকে দূরে থাকতে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলেন, 'আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পতন ঘটেছে বিহারে। আমি রাজ্যপালের কাছে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানাব। এখানে জাতপাতের ভিত্তিতে খুন হচ্ছে।'
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাটনা ও বক্সার থেকে মোট ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। শেরু গ্যাং-এর সম্ভাব্য লুকোনো ঘাঁটি ও চেনা জায়গাগুলিতে অভিযান চলছে। তদন্তে নেমেছে একাধিক টিম।