চন্দন মিশ্র কুখ্যাত দুষ্কৃতী। তাঁর নামে খুন-ডাকাতির মতো ২৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১২টি খুনের মামলা। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ভর্তি ছিলেন ‘প্যারাস হাসপাতাল’-এ।
.jpeg.webp)
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 18 July 2025 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনেদুপুরে পাটনার এক বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকে এক গ্যাংস্টারকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। এরপর বাইকে চেপে প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক উঁচিয়ে দাপিয়ে বেড়াল। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে প্রশ্নের মুখে বিহারের আইনশৃঙ্খলা।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের, পাটনার ‘প্যারাস হাসপাতাল’-এর। পাঁচজন দুষ্কৃতী হাসপাতালের আইসিইউ-তে ঢুকে পড়ে চন্দন মিশ্র নামে এক গ্যাংস্টারকে হত্যা করে। কোনও রকম বাকবিতণ্ডা ছাড়াই একের পর এক গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন চন্দন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
চন্দন মিশ্র কুখ্যাত দুষ্কৃতী। তাঁর নামে খুন-ডাকাতির মতো ২৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১২টি খুনের মামলা। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ভর্তি ছিলেন ‘প্যারাস হাসপাতাল’-এ। ঘটনার পর হাসপাতালের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন দুষ্কৃতী একটি বাইকে চেপে পালাচ্ছে। একজন বাইকে বসে বন্দুক দেখিয়ে অন্য হাত আকাশে তুলে কোনও বিজয় সংকেত করছে।
প্রকাশ্যে এমন দাপট দেখে তাজ্জব সকলে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম তৌসিফ বাদশা। সে পটনার ফুলওয়ারি শরিফ এলাকার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, তার বাবা একটি হার্ডওয়্যার ব্যবসা চালান, মা স্কুলশিক্ষিকা।
পুলিশ সূত্রে খবর, চন্দনের খুনের পিছনে রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের হাত। সেই গ্যাংয়ের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। অভিযান চলছে রাজ্যের একাধিক জায়গায়।
পটনার সিনিয়র পুলিশ সুপার কার্তিকেয় শর্মা জানান, চন্দন মিশ্র বক্সার জেলার বাসিন্দা। বক্সার থেকে ভাগলপুর জেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। চিকিৎসার কারণে প্যারোলে ছাড়া পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁকে গুলি করে মেরেছে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং। বক্সার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ‘চন্দন শেরু গ্যাং’-এর সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
এই খুনের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা ও শাসকজোট।
আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব কটাক্ষ করে বলেন, 'সরকারি মদতে চলছে অপরাধ। আইসিইউ-তে ঢুকে এক রোগীকে গুলি করে মারা হচ্ছে! বিহারে কি কেউ নিরাপদ? ২০০৫-এর আগেও কি এমনটা হত?' এদিকে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সিনহা বলেন, 'এই ধরনের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। দোষীদের কড়া শাস্তি হবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।'
ভোটের আগে উত্তপ্ত বিহার। ইতিমধ্যেই খুন হয়েছেন ব্যবসায়ী গোপাল খেমকা, বিজেপি নেতা সুরেন্দ্র কেওয়াত এবং আইনজীবী জিতেন্দ্র মাহাত। তার উপর এই হাসপাতাল-হত্যাকাণ্ড যেন আগুনে ঘৃতাহুতি।