এই মন্তব্যে তোলপাড়া রাজনৈতিক মহল। এপর্যন্ত এনিয়ে মুখ খোলেনি কেউ।

কুন্দন কৃষ্ণন
শেষ আপডেট: 17 July 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক খুনের ঘটনায় তোলপাড় বিহার। ঠিক এই পরিস্থিতিতে বিতর্কে ঘি ঢাললেন বিহার পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করতে তিনি দাবি করেন, এপ্রিল থেকে জুন, এই তিন মাসে খুনের ঘটনা বেশি ঘটে, কারণ এই সময়ে চাষের কাজ থাকে না কৃষকদের। পরে বৃষ্টি নামলে পরিস্থিতি বদলায়। কৃষকসমাজ তখন চাষের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ফলে অপরাধ কমে যায়।
বিহার পুলিশের এডিজি (হেডকোয়ার্টার) কুন্দন কৃষ্ণন বলেন, 'সম্প্রতি বিহারজুড়ে অনেক খুন হয়েছে। সাধারণত এপ্রিল, মে, জুন, এই তিন মাসেই সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটে। এই প্রবণতা বর্ষা আসা পর্যন্ত চলতে থাকে। কারণ কৃষকদের ততদিন কাজ থাকে না। বর্ষা নামার পরে তাঁরা আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমে যায়।'
তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। কৃষিকাজের অভাবকে খুনের কারণ হিসেবে দেখানোকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবৈজ্ঞানিক বলে দাবি করেছেন অনেকে।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি কুন্দন কৃষ্ণন। তাঁর মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিডিয়া ও রাজনৈতিক দলগুলি খুনের ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, 'বিহারজুড়ে খুন তো হয়েই চলেছে… ঘটনা ঘটছে কিন্তু মিডিয়া বারবার একটার পর একটা খুনের খবর দেখাচ্ছে। নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসছে বলেই রাজনৈতিক দলগুলিও এসব বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।'
তবে পুলিশ হিসেবে তিনি বা তাঁরা যে উদ্বিগ্ন, তা-ও জানান এই এডিজি। বলেন, 'আমরা চিন্তিত। এখনকার যুবসমাজ টাকার লোভে অনেক সময়েই এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।'
এই পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী পদক্ষেপ করছে পুলিশ? এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণন জানান, এই মাসেই তাঁরা একটি নতুন সেল গঠন করছেন। এই সেলের কাজ হবে রাজ্যের সমস্ত পুরনো শার্পশুটার ও কনট্র্যাক্ট কিলারদের ডেটাবেস তৈরি করা এবং তাদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা।
উল্লেখ্য, বিহারে সম্প্রতি একের পর এক খুনের ঘটনায় প্রশ্নে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা। কিছুদিন আগেই পাটনায় নিজের বাড়ির সামনে খুন হন ব্যবসায়ী গোপাল খেমকা। বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে, বিজেপির প্রাক্তন কিষাণ মোর্চা সভাপতি সুরেন্দ্র কেওয়াতকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার আইসিইউ-তে ঢুকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। মৃত্যু হয় একাধিক ঘটনায় যুক্ত অপরাধীর। এই সমস্ত ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন সাধারণ মানুষও।