অর্থনীতি ও রাজকোষের বাস্তবতা খতিয়ে দেখে বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই মনে করছেন—এবার বাজেটে ‘বিগ ব্যাং’ করছাড়ের সম্ভাবনা কম।

নির্মলা সীতারামন
শেষ আপডেট: 27 January 2026 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণ বাজেট (Budget 2026) থেকে জন সাধারণের এবারও উচ্চ আশা রয়েছে। বাজেট ঘিরে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা এবারও অবশ্য বরাবরই থাকে। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, ইএমআই-এর চাপ আর দৈনন্দিন খরচের বোঝায় অনেকেই তাকিয়ে থাকে বড়সড় আয়কর ছাড়ের (Income Tax Rebate) দিকে। প্রশ্ন হল, বাজেট কি সেই স্বস্তি দেবে? দিলে কেন দেবে, আর না দিলেই বা তার যুক্তি কী?
মোদ্দা একটা কথা গোড়াতেই জানিয়ে রাখা যায়। তা হল, অর্থনীতি ও রাজকোষের বাস্তবতা খতিয়ে দেখে বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই মনে করছেন—এবার বাজেটে ‘বিগ ব্যাং’ করছাড়ের সম্ভাবনা কম।
গত কয়েক বছরে নতুন কর ব্যবস্থার (New Tax Regime) মাধ্যমে আয়কর কাঠামোয় বড় রদবদল হয়েছে—স্ল্যাব সরলীকরণ, রিবেট বাড়ানো ও কমপ্লায়েন্স সহজ করা হয়েছে। সরকারের মতে, এগুলি সাময়িক সুবিধা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার। তাই বাজেট ২০২৬-এ নাটকীয় ঘোষণার বদলে স্থিতিশীলতা ও আর্থিক শৃঙ্খলাই অগ্রাধিকার পেতে পারে।
কাঠামোগত সংস্কার হয়েছে, রাজকোষে জায়গা কম
কর বিশেষজ্ঞ দিনকর শর্মার মতে, ব্যক্তিগত আয়করে ‘হেভি লিফটিং’ অনেকটাই হয়ে গেছে। পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা ও কল্যাণমূলক খাতে উচ্চ ব্যয়ের কারণে বড় করছাড় দেওয়ার মতো রাজকোষীয় অবকাশ সীমিত। তাঁর বক্তব্য, এখন করদাতাদের দাবিও বদলেছে। অনেকেই চাইছেন, কর ছাড় শুধু সংবাদের শিরোনাম হয়ে ওঠার জন্য যেন না হয়। তা যেন হয় বাস্তবসম্মত। যেমন, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত স্ল্যাব, ছাড়ের সীমা যুক্তিযুক্ত করা ও প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।
কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত কর—ছাড় আগেই ধরা হয়েছে
একই সুরে দীপেশ চেড্ডা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরে কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। দেশীয় কর্পোরেট কর প্রায় ২৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। বিদেশি কর্পোরেট করেও বড় সংশোধন হয়েছে। এসবের ফলে রাজস্বে ইতিমধ্যেই বড় ধাক্কা লেগেছে। তার উপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে জিএসটি হারে বদলের কারণে ৪৮,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কমেছে সরকারের। সব রাজকোষের যা অবস্থা তাতে বড়সড় নতুন করছাড় কঠিন।
ম্যাক্রো অর্থনীতি ও আর্থিক শৃঙ্খলায় অগ্রাধিকার
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিনীত দ্বিবেদী মনে করেন, সরকারের ফোকাস থাকবে বিনিয়োগ-নির্ভর বৃদ্ধি ও ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে। যদিও ঘাটতি কমেছে, তবু সুদ বাবদ খরচ এখনও কর আয়ের বড় অংশ গ্রাস করে। পাশাপাশি পুঁজি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্ব জুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তাই মধ্যবিত্ত করছাড়ের চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই প্রাধান্য পাবে।
ইনক্রিমেন্টাল স্বস্তি, বড় ঘোষণা নয়
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত—বাজেট ২০২৬-এ বড় করছাড়ের বদলে লক্ষ্যভিত্তিক ছোটখাটো স্বস্তি আসতে পারে। যেমন স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়ানোর দাবি (নতুন ব্যবস্থায় ৭৫,০০০ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত), সারচার্জের হার ঠিক করা ইত্যাদি।
অর্থাৎ মধ্যবিত্তের প্রত্যাশা থাকলেও, বাজেটে চমকের বদলে সূক্ষ্ম সমন্বয়ই বেশি বাস্তবসম্মত হয়ে উঠতে পারে। স্থিতিশীলতা থাকবে, বড় সারপ্রাইজ নাও আসতে পারে।