দিল্লির লাল কেল্লায় বিস্ফোরণ কাণ্ডে সন্দেহভাজন আত্মঘাতী চিকিৎসক উমর মহম্মদ ‘বইপোকা’ হিসেবে পরিচিত সকলের কাছে। আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের এই চিকিৎসক ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। বিস্ফোরণ ঘটনার পর গভীর শোকে সদস্যরা।
.jpeg.webp)
উমরের বৌদি ও তাঁর সন্তান
শেষ আপডেট: 11 November 2025 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লাল কেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে ফরিদাবাদ ভিত্তিক সন্ত্রাস মডিউলের সদস্য ডাঃ মহম্মদ উমরের নাম। সোমবার রাতে যে হুন্ডাই আই ২০ গাড়িটি বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেটি চালাচ্ছিলেন উমর নিজেই, এই তথ্য নিশ্চিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ওই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, জখম অন্তত ২০।
ডাঃ উমর আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। পুলওয়ামার কৈল গ্রামের বাসিন্দা এই চিকিৎসককে পরিবার বর্ণনা করেছে “বইপোকা” বা পড়াশোনায় ডুবে থাকা মানুষ হিসেবে। তাঁর বৌদি এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'ও আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিল, যার মাধ্যমে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমরা স্তম্ভিত।'
তিনি জানান, উমর শেষবার বাড়ি গিয়েছিলেন প্রায় দুই মাস আগে। গত সপ্তাহের শুক্রবার ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। 'বলেছিল পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে, লাইব্রেরিতে পড়ছে। সে সব সময় পড়াশোনার কথাই বলত, আমাদেরও পড়তে উৎসাহ জোগাত,' বলেন ওই মহিলা।
সোমবার রাতের বিস্ফোরণের পরই পুলিশ জেরা করছে উমরের দুই ভাই আশিক আহমদ ও জহুর আহমদকে। তাঁদের মাকে-ও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জানা গিয়েছে, বড় ভাই একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন এবং ছোট ভাই স্টেনোগ্রাফির পড়াশোনা করছে।
তদন্তে প্রকাশ, ফরিদাবাদের আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উমর। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল, যার বাড়ি থেকে গত সপ্তাহে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক তৈরির উপাদান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের দাবি, মুজাম্মিল শাকিলের গ্রেফতারের পরই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উমর। এরপরই তিনি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (Ammonium Nitrate Fuel Oil বা ANFO), একটি অত্যন্ত দাহ্য যৌগ, যা সাধারণত শিল্প বিস্ফোরকে ব্যবহৃত হয়।
এই 'ফিডায়েঁ স্টাইল অ্যাটাক' (fidayeen-style attack) ঘিরে গোটা দেশজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে দিল্লি পুলিশ ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করছে।