এক্স-এ প্রকাশিত এক চিঠিতে ALPA India জানায়, ২০১৮ সালের FAA পরামর্শে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ গেট সম্পর্কিত সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত ছিল, যা এই দুর্ঘটনার সূত্র হতে পারে।

শেষ আপডেট: 13 July 2025 23:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ জুন আমদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘিরে তদন্ত চলছে। তার মধ্যেই, মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং বোয়িং গোপনে জানিয়ে দিয়েছে, বোয়িং বিমানে ব্যবহৃত ফুয়েল সুইচ লক ব্যবস্থা ‘নিরাপদ’।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার হাতে আসা নথি এবং বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত চারটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১১ জুলাই FAA একটি Continued Airworthiness Notification পাঠায়, যা এসেছে সেই প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের পরেই— যেখানে গত মাসে ঘটে যাওয়া বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৬০ জনের। তদন্তে প্রশ্ন উঠেছিল ইঞ্জিনের ফুয়েল কাটঅফ সুইচ নিয়ে।
FAA ওই সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক নথিতে জানায়, “যদিও ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের ডিজাইন এবং লকিং ফিচার একাধিক বোয়িং মডেলে একই রকম, FAA মনে করে না যে এটি কোনও এমন ধরনের সমস্যা যা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই বোয়িংয়ের কোনও মডেলের জন্য এয়ারওয়ার্দিনেস ডিরেক্টিভ জারির প্রয়োজন নেই।” এই নিয়ে মন্তব্য চাইলে FAA জানায়, তারা ওই বিজ্ঞপ্তির বাইরেও কিছু বলার নেই।
বোয়িংও, গত ক’দিনে বিমান সংস্থাগুলোর উদ্দেশে পাঠানো Multi-Operator Message-এ, FAA-এর সেই বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করেছে। দু’টি সূত্র জানায়, বোয়িং কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেনি। বোয়িংয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা জানায়, FAA-এর বক্তব্যেই সব রয়েছে।
এদিকে ভারতের Aircraft Accident Investigation Bureau (AAIB) যেটি ওই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে, তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে ২০১৮ সালের একটি FAA পরামর্শের। সেখানে একাধিক বোয়িং মডেলের (যার মধ্যে ৭৮৭-ও রয়েছে) ফুয়েল কাটঅফ সুইচের লকিং ফিচার ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছিল। যদিও এটি বাধ্যতামূলক ছিল না।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এয়ার ইন্ডিয়া FAA-এর ২০১৮ সালের ওই পরামর্শমতো পরীক্ষা করেনি, কারণ সেটি ‘আবশ্যিক’ নয় বলে গণ্য করা হয়েছিল। রিপোর্টে অবশ্য উল্লেখ রয়েছে, বিমান ও ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রযোজ্য এয়ারওয়ার্দিনেস ডিরেক্টিভ এবং সার্ভিস বুলেটিন মেনে চলা হয়েছিল।
এদিকে, পাইলটদের আন্তর্জাতিক সংগঠন IFALPA-র ভারতীয় শাখা ALPA India, একটি বিবৃতিতে স্পষ্ট জানায়— পাইলটের ভুল ধরে নেওয়ার প্রবণতা তারা মানে না, এবং তদন্ত যেন তথ্যনির্ভর ও ন্যায্য হয়, তার দাবি জানায়। ALPA India-র প্রেসিডেন্ট স্যাম থমাস রবিবার সংবাদসংস্থাকে বলেন, “পাইলটদের সংস্থা হিসেবে আমাদের এই তদন্তে অন্তত পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”
এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ প্রকাশিত এক চিঠিতে ALPA India জানায়, ২০১৮ সালের FAA পরামর্শে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ গেট সম্পর্কিত সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত ছিল, যা এই দুর্ঘটনার সূত্র হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইটের শেষ মুহূর্তে এক পাইলট অপর পাইলটকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি ফুয়েল বন্ধ করে দিলেন। জবাবে অপর পাইলট জানান, তিনি কিছুই করেননি।
সেই সময়, উড়ান শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই, দু’টি ফুয়েল সুইচ ‘রান’ (Run) থেকে একসঙ্গে ‘কাটঅফ’ (Cutoff)-এ ঘুরে গিয়েছিল। কীভাবে সেই সুইচগুলি ঘুরে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে, দুইজন মার্কিন বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ALPA India-র পর্যবেক্ষক হওয়ার অনুরোধকে সমর্থন করেছেন। তবে তাঁরা জানিয়েছেন, তদন্ত রিপোর্টে পাইলট দোষী এমন কোনও পক্ষপাত দেখা যায়নি। ALPA-র প্রাক্তন প্রতিনিধি তথা পাইলট জন কক্স জানান, AAIB-এর রিপোর্ট “উপযুক্ত ও নিরপেক্ষ” মনে হয়েছে।