আইনজীবী অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে একটি অ্যাম্বুল্যান্স এলেও তারা আহতদের সাহায্য করেনি।

শেষ আপডেট: 17 September 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে বিএমডব্লিউ গাড়ির ধাক্কায় (Delhi BMW accident) অর্থ মন্ত্রকের এক আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত গগনপ্রীত কৌর (Gaganpreet Kaur) আদালতে জামিন চেয়ে (bail plea) এবার এক বিতর্কিত মন্তব্য করলেন। বুধবার পাতিয়ালা হাউস কোর্টে তিনি দাবি করেন, “যদি কোনও মহিলার নাম এরকম ঘটনায় উঠে আসে, তাহলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা সংক্রান্ত মামলাতেও জামিন দেওয়া যায়।”
গত রবিবার ধৌলা কুয়ানের কাছে কৌরের বিএমডব্লিউ একটি মোটরবাইকে ধাক্কা মারে। সেই বাইকটি চালাচ্ছিলেন নব্যজ্যোত সিং (Navjyot Singh), অর্থ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি। দুর্ঘটনায় নবজ্যোতের মৃত্যু হয় এবং তাঁর স্ত্রী, যিনি পিলিয়নে ছিলেন, গুরুতর আহত হন। সোমবার গগনপ্রীত কৌরকে গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে বিচারের জন্য হেফাজতে পাঠানো হয়।
গগনপ্রীতের আইনজীবী ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট রমেশ গুপ্তা জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, “এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। কিন্তু দেশে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার দুর্ঘটনা হয়, সেগুলিও সমানভাবে দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি দাবি করেন, পুলিশ বলেছে যে বিএমডব্লিউর ধাক্কায় মোটরবাইকটি পড়ে গিয়ে একটি ডিটিসি বাসে ধাক্কা মারে। তাহলে বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল না কেন?
আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে একটি অ্যাম্বুল্যান্স এলেও তারা আহতদের সাহায্য করেনি। “অ্যাম্বুল্যান্সও যদি সাহায্য না করে, তবে তারও দায় থাকে,” তিনি বলেন। আইনজীবীর দাবি, পুলিশ দুর্ঘটনার প্রায় দশ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের করেছে, অথচ তদন্তে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশকে সাক্ষী করা উচিত।
এই মামলায় গগনপ্রীত কৌরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা (বিএনএসের ১০৫ ধারা), ২৮১ (বেপরোয়া গাড়ি চালানো) এবং ১২৫বি (অন্যের জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন করা)-র অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, “কীভাবে ৩০৪ ধারা (যা এখন বিএনএসের ১০৫ ধারা) প্রয়োগ করা হল? তদন্তকারী অফিসার ভাল করেই জানেন, উপধারা ‘এ’ না ‘বি’ প্রযোজ্য হবে। আমার মক্কেলের ক্ষেত্রে ৩০৪(২) ধারা হওয়া উচিত, যেখানে জামিনের সুযোগ থাকে। তাঁরা বলছেন আহতদের দূরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য ওই ধারা প্রযোজ্য হয়েছে।”
দুর্ঘটনার পর গগনপ্রীত আহতদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে জানা যায়, ওই হাসপাতালের মালিকানায় তাঁর বাবারও অংশ রয়েছে। এর ফলে পুলিশ সন্দেহ করছে, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা।
প্রসিকিউশন পক্ষ প্রশ্ন তোলে, “যদি তিনি জানতেন ভিকটিমের আঘাত গুরুতর, তবে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাননি কেন? কেন তিনি পুলিশকে জানালেন পাঁচ ঘণ্টা পরে?” পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তের কোনও চোট লাগেনি।
পুলিশ আদালতে জানায়, “গগনপ্রীতকে গাড়ি থেকে তাঁর সন্তানদের নামাতে দেখা গেছে। অথচ পরে তিনি আইসিইউ-তে ভর্তি হন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের স্ট্রেচারে ফেলে রাখা হয়েছিল, আর যিনি সব আয়োজন করলেন, তিনি ভর্তি হলেন আইসিইউ-তে। দুর্ঘটনার পর অন্তত পাঁচ ঘণ্টা পুলিশকে জানানো হয়নি - এটা কীভাবে সম্ভব?”
প্রসিকিউশন আরও জানায়, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে যে ট্যাক্সিচালক এগিয়ে এসেছিলেন, তিনি গগনপ্রীতকে নিকটবর্তী হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি নিজের পছন্দের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন।
এই ঘটনার জেরে তাঁর জামিনের আবেদন নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালত এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানি শনিবারের জন্য স্থগিত করেছে।